মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

ইয়েমেনে বিমান হামলা: বাস্তুচ্যুত লক্ষাধিক মানুষ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম

ইয়েমেনে বিমান হামলা: বাস্তুচ্যুত লক্ষাধিক মানুষ

ইয়েমেনে বিমান হামলা জোরদার করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট, যার মুখে চলতি মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এক লাখ ২৫ হাজারের বেশি মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর জানিয়েছে, নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাতের কারণে ১৮ হাজারেরও বেশি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এর আগে সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা, যার জবাবে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেয় সৌদি জোট।

মরুভূমির এই দেশে মানবিক সংকট আবারও চরম রূপ নিচ্ছে।

সৌদি সামরিক জোটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খামিস মুশাইত, আভা এবং তায়েফ শহরে হুথিদের ছোড়া গোলায় ১৩ জন বেসামরিক ব্যক্তি সামান্য ও মাঝারি ধরনের আঘাত পেয়েছেন। একই সঙ্গে সাতটি বসতবাড়ি ও দুটি ব্যক্তিগত যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘটনার পরপরই জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে যৌথ বাহিনী অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কিন্তু কঠোরভাবে এসব হামলার জবাব দেবে। এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রান্তে তীব্র বিমান অভিযান শুরু হয়।

সংঘাতের তীব্রতায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা এখন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, লড়াই ছড়িয়ে পড়ার ফলে সাধারণ মানুষের ওপর হতাহতের ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোর সহায়তা কার্যক্রম বড় ধরনের প্রতিকূলতার মুখে পড়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে চিকিৎসাসামগ্রী ও খাদ্য সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়ায় বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে উঠেছে।

আকাশপথে একের পর এক আঘাত হানা হচ্ছে।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটির লাহিজ, তাইজ, আল-জাওফ, মারিব এবং হাজ্জাহ প্রদেশে মোট ৫৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি বাহিনী। তিনি জানান, খামিস মুশাইত ও তায়েফ বিমান ঘাঁটি থেকে এফ-ফিফটিন ও টাইফুন যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে এই আক্রমণগুলো পরিচালনা করা হয়। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তাইজ প্রদেশের খাদির জেলার একটি সরকারি প্রশাসনিক কমপ্লেক্সে সরাসরি বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া ধুবাব ও মাকবানাহ জেলায় হামলায় দুই শিশুসহ তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং অন্তত দুইজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

পাল্টা প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়ে হুথি মুখপাত্র জানিয়েছেন, আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সামরিক অবস্থানগুলোতে তাদের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। তবে হুথিদের পক্ষ থেকে বেসামরিক প্রাণহানি ও নির্দিষ্ট এলাকায় বোমাবর্ষণের যে দাবি করা হয়েছে, সে বিষয়ে সৌদি আরব প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। এমনকি রিয়াদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

banner
Link copied!