কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন সীমাবদ্ধ রাখতে প্রণীত কয়েক দশকের পুরনো পরিবেশগত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা। সোমবার হিউস্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার প্রশাসক লি জেল্ডিন এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। সংস্থাটির প্রাথমিক হিসাবে, কঠোর এই শর্তগুলো তুলে নেওয়ায় মার্কিন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ৩০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি পরিচালন ব্যয় সাশ্রয় হবে।
পরিবেশ সুরক্ষায় কয়েক দশকের দীর্ঘ লড়াই এক ঘোষণায় থেমে গেল।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার যুক্তি হলো, কেন্দ্রীয় সরকারের অযৌক্তিক নীতি পরিহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন অবকাঠামো ঢেলে সাজাতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন এই নির্দেশনার ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোনো কেন্দ্রগুলো জোর করে বন্ধ না করে নিজেদের সুবিধামতো উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারবে। পাশাপাশি সংস্থাটি আরেকটি নিয়ম কার্যকরের প্রস্তাব করেছে, যা চূড়ান্ত অনুমোদনের পর ভবিষ্যৎ সরকারগুলোর পক্ষেও বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নতুন করে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন নিয়ন্ত্রণ চাপিয়ে দেওয়ার পথ অনেকটাই বন্ধ করে দেবে। এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে দেশের শিল্প খাতে উৎপাদন খরচ কমানোর পথ প্রশস্ত করা হয়েছে বলে দাবি করছে প্রশাসন।
তবে সরকারের এই পদক্ষেপে তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন। সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটির জলবায়ু আইন ইনস্টিটিউটের আইনজীবী ম্যাগি কুল্টার জানান, দেশের মোট দূষণের এক-চতুর্থাংশের প্রভাব অস্বীকার করার সিদ্ধান্তটি চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পদক্ষেপের ফলে তীব্র দাবদাহ, বিধ্বংসী ঝড় ও ভয়াবহ দাবানলের প্রকোপ বাড়বে, যার সরাসরি মাশুল দেবে সাধারণ মানুষ। একই শঙ্কা প্রকাশ করে ওয়াশিংটনের ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্যাটি মারে অভিযোগ করেছেন, প্রশাসন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে কোনো বাধা ছাড়াই দূষণ ছড়ানোর সুযোগ করে দিচ্ছে, যা পরিবারগুলোর স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সংকটে ফেলবে।
শিল্প দূষণের রাশ টেনে ধরার বৈশ্বিক চেষ্টায় বড় আঘাত লেগেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালে দ্বিতীয় দফায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পরিবেশ সুরক্ষাবিষয়ক নিয়মগুলো ধারাবাহিকভাবে রদ করা হচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই কার্বন ডাই অক্সাইড ও গ্রিনহাউস গ্যাস জনস্বাস্থ্যের জন্য সরাসরি হুমকিস্বরূপ—২০০৯ সালের এমন একটি স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন বাতিল করেছিল পরিবেশ সংস্থা। ওই সিদ্ধান্তের ফলে যানবাহন ও কলকারখানার দূষণ নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় সরকারের আইনি ক্ষমতা খর্ব হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সে সময় এটিকে মার্কিন ইতিহাসের একক বৃহত্তম নিয়ন্ত্রণমুক্তিকরণ আখ্যা দিয়েছিলেন, যা নিয়ে বর্তমানে দেশটির উচ্চ আদালতে একাধিক মামলা চলছে।
হিউস্টনে আন্তর্জাতিক জোট জি-টোয়েন্টির জ্বালানি প্রাচুর্য বিষয়ক একটি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের সুযোগে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নীতির পক্ষে থাকা ইউরোপীয় মিত্রদের অসন্তোষ সত্ত্বেও তেলসমৃদ্ধ টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় এই অবস্থান স্পষ্ট করল ওয়াশিংটন। এর আগে গত বছর জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে জলবায়ু সংকটকে একটি কল্পিত বিষয় আখ্যা দিয়ে ২০১৫ সালের আন্তর্জাতিক প্যারিস চুক্তি থেকে দ্বিতীয়বারের মতো সরে আসেন ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতায় দেশটিতে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম চার ডলার ৩১ সেন্টে উঠে গেলেও দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন সর্বাত্মক বাড়িয়ে সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার যুক্তি দিচ্ছে হোয়াইট হাউস।
