ইউরোপের তিন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী লন্ডন, মিউনিখ ও রোমকে পেছনে ফেলে ২০২৯ সালের বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের ঐতিহাসিক অধিকার অর্জন করেছে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি। মঙ্গলবার হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকস কাউন্সিলের এক সভা শেষে এই যুগান্তকারী ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতাটির দীর্ঘ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আফ্রিকার কোনো দেশে বসতে যাচ্ছে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের এই সর্বোচ্চ আসর।
আফ্রিকার ক্রীড়া ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।
কাউন্সিলের বৈঠকের পর জানানো হয়, ২০২৯ সালের সফল নির্বাচনের পাশাপাশি ২০৩১ সালের আসরটি জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত হবে। অ্যাথলেটিকসের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সভাপতি সেবাস্টিয়ান কো সংবাদ সম্মেলনে জানান, ২০২৯ এবং ২০৩১ সালের জন্য চারটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী প্রস্তাব জমা পড়েছিল, যার ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া কাউন্সিলের জন্য বেশ কঠিন ছিল। এর আগে ২০২৭ সালের আসরটির স্বাগতিক হিসেবে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছিল। ফলে আগামী তিনটি আসর যথাক্রমে এশিয়া, আফ্রিকা এবং ইউরোপের মাটিতে ধারাবাহিকভাবে গড়াবে।
আন্তর্জাতিক এই আসরকে আফ্রিকায় নিয়ে আসাকে একটি ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন সংস্থাটির শীর্ষ নেতৃত্ব। সেবাস্টিয়ান কো জানান, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের মতো আসর এমন সময় আফ্রিকায় যাওয়া উচিত ছিল যখন উপযুক্ত স্বাগতিক, শক্তিশালী প্রস্তাব এবং অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত থাকে। কেনিয়ার এই আবেদনটি ছিল অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত ও আবেগপূর্ণ। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, এই আয়োজন কেনিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে সমগ্র আফ্রিকা মহাদেশের অ্যাথলেটিকস পরিকাঠামোকে গতিশীল করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণাদায়ী এক উত্তরাধিকার রেখে যাবে।
অতীতে ব্যর্থ হলেও হাল ছাড়েনি পূর্ব আফ্রিকার দেশটি।
কেনিয়া এর আগে ২০২৫ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের দৌঁড়ে অংশ নিয়ে ব্যর্থ হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক আসর সফলভাবে ব্যবস্থাপনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে দেশটির। এর আগে ২০০৭ সালে মোম্বাসায় ওয়ার্ল্ড ক্রস কান্ট্রি চ্যাম্পিয়নশিপ, ২০১৭ সালে নাইরোবিতে বিশ্ব অনূর্ধ্ব-১৮ প্রতিযোগিতা এবং ২০২১ সালে রাজধানীতে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ সফলভাবে আয়োজন করে তারা। এছাড়া ২০১০ সালে আফ্রিকান অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপের স্বাগতিক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিল নাইরোবি।
সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই এবার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রস্তাব নিয়ে ফিরে আসে কেনিয়ার প্রতিনিধি দল। শহরটির ঐতিহাসিক কাসারানি স্টেডিয়ামে বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ সংস্কার কাজ পরিচালিত হচ্ছে, যা ২০২৭ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনস ফুটবল টুর্নামেন্টের জন্যও প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই আধুনিক অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক মানের ট্র্যাক সুবিধা আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের আস্থা অর্জনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে বলে উম্মাহ কণ্ঠ ডট কম ডেস্ক নিশ্চিত করেছে।
