মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ‘নিরস্ত্রীকরণ’ করার আহ্বান পোপ লিও’র

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২৬, ২০২৬, ০২:২২ পিএম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ‘নিরস্ত্রীকরণ’ করার আহ্বান পোপ লিও’র

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে বা এআই-কে ‘নিরস্ত্রীকরণ’ করার জরুরি আহ্বান জানিয়েছেন পোপ লিও। পোপ হিসেবে তার প্রথম বড় এই নীতিগত দলিলে তিনি প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং এটি কীভাবে ‘নতুন ডিজিটাল দাসত্ব’ সৃষ্টি করতে পারে, সে বিষয়ে কঠোর সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন। ভ্যাটিকানে এই দলিলটি উপস্থাপনকালে তিনি এআই-এর ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বনেতাদের দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।ভ্যাটিকান এই দলিলে গির্জার ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায়ের জন্য ক্ষমাও চেয়েছে।

পোপ লিও বলেন, তিনি ‘নিরস্ত্রীকরণ’ শব্দটি সচেতনভাবেই ব্যবহার করেছেন, যাতে প্রযুক্তির এই চরম মুহূর্তটিতে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়। ‘ম্যাগনিফিকা হিউম্যানিটা’ বা ‘মহিমান্বিত মানবতা’ শিরোনামের এই দলিলে তিনি দাসপ্রথার ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডির সাথে ডিজিটাল যুগে মানুষের শোষণের তুলনা করেছেন। তার মতে, মানুষ আবারও সেই নৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছে যেখানে শোষণের বিষয়টি স্বাভাবিক হয়ে ওঠার ঝুঁকি রয়েছে।

এই দলিল উপস্থাপনের সময় পোপের সাথে ছিলেন মার্কিন এআই জায়ান্ট অ্যানথ্রোপিকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস্টোফার ওলাহ। ওলাহ স্বীকার করেন যে, এআই ল্যাবগুলো এমন সব প্রলোভন ও সীমাবদ্ধতার ভেতর কাজ করে, যা অনেক সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তার মতে, এআই নিয়ে যেসব মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে, তা কেবল কম্পিউটার বিজ্ঞানীদের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখা একটি বড় ভুল।যুদ্ধের ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের সমালোচনা করেছেন পোপ।

পোপ লিও স্পষ্টভাবে বলেছেন, কোনো অ্যালগরিদমই যুদ্ধকে নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারে না। মানুষের নিয়ন্ত্রণহীন মারণাস্ত্র যুদ্ধকে আরও অমানবিক করে তুলবে এবং সহিংসতা বাড়িয়ে দেবে বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, এআই প্রযুক্তি যুদ্ধক্ষেত্রকে ডেটা বা তথ্যের স্তূপে পরিণত করছে, যা ভুক্তভোগীদের যন্ত্রণা লাঘবের বদলে তাদের কেবল সংখ্যায় রূপান্তরিত করে ফেলছে।

banner
Link copied!