সৌদি আরবে আরাফাহ দিবস পালিত হচ্ছে দেখে বাংলাদেশের অনেক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি বিভ্রান্তিতে পড়েছেন। অনেকে ভাবছেন আজই বুঝি আরাফার রোজা রাখতে হবে, যা নিয়ে তাদের মাঝে দুশ্চিন্তা কাজ করছে। তবে নির্ভরযোগ্য ইসলামি স্কলার ও শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, এই দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশে স্থানীয় চাঁদ দেখার ভিত্তিতে জিলহজের ৯ তারিখ হিসেবে আগামীকাল বুধবার ২৭ মে আরাফার রোজা পালিত হবে।এটি স্থানীয় চাঁদ দেখার ভিত্তিতে নির্ধারিত।
ইসলামি শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি অঞ্চলের মানুষ স্থানীয় চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ইবাদত ও উৎসব পালন করবে। সহীহ মুসলিমের একটি প্রসিদ্ধ হাদিসে (১০৮৭) ইবনে আব্বাস (রা.) স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, প্রতিটি জনপদ নিজস্ব চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করেই আমল সম্পন্ন করবে। রাসুলুল্লাহ (স.)-এর এই নির্দেশনাই আমাদের জন্য অনুসরণীয়। আলবাহরুর রায়েক ও ফতোয়ায়ে উসমানির মতো বিখ্যাত ফিকহগ্রন্থগুলোতেও স্থানীয় হিসাবকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরাফার রোজার ফজিলত অপরিসীম। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আরাফার দিনের রোজা আগের এক বছর ও পরের এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে’ (সহীহ মুসলিম: ১১৬২)। আরাফা দিবসটি জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হিসেবে গণ্য হয়। তাই কোনো কারণে আজ রোজা রাখতে না পারলেও হতাশ হওয়ার অবকাশ নেই।আগামীকাল বুধবার সাহরি খেয়ে রোজার নিয়ত করুন।
আরাফাহ দিবসে রোজার পাশাপাশি দোয়া, জিকির ও তওবা-ইস্তেগফারে মগ্ন থাকা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (স.) এ দিনে যে দোয়াটি বেশি পড়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তা হলো: ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাই’ইন কাদির।’ বছরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই সুযোগটি হাতছাড়া করা উচিত নয়।সব প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য।
আল্লাহ তাআলা আমাদের ইবাদতের সঠিক পথে অটল রাখুন এবং যথাযথভাবে আরাফার দিনের ফজিলত অর্জন করার তাওফিক দান করুন। বিভ্রান্তি এড়িয়ে শরিয়তের ওপর আমল করাই মুমিনের সার্থকতা। আমিন।
