অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডের একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ছয় মাসের এক শিশুসহ একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী ক্যাম্পে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয় বলে চিকিৎসাকর্মী ও আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থাগুলো নিশ্চিত করেছে। গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেই ইসরায়েল এই জানমালের ক্ষতিসাধন অব্যাহত রেখেছে।গাজার আল-আকসা মার্টার্স হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোববার ভোরে এই মরদেহগুলো গ্রহণ করে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তিরা হলেন মোহাম্মদ আবু মাল্লুহ, তার স্ত্রী আলা জাকলান এবং তাদের মাত্র ছয় মাস বয়সী সন্তান ওসামা। চিকিৎসাকর্মীরা জানিয়েছেন, নুসেইরাতের একটি অ্যাপার্টমেন্ট লক্ষ্য করে চালানো এই বিমান হামলায় আরও অন্তত ১০ জন ফিলিস্তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। এই কাপুরুষোচিত হামলার বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজা উপত্যকায় প্রায় প্রতিদিনের হামলায় অন্তত ৯০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে। আল জাজিরার মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার ভোরে যখন ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ শুরু হয়, তখন বাধ্য হয়ে বাস্তুচ্যুত হওয়া ফিলিস্তিনিরা নিজেদের তোশক ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালাচ্ছিলেন। এর পাশাপাশি পূর্ব গাজার তথাকথিত `ইয়েলো লাইন` বা সামরিক বাফার জোনের ভেতরে থাকা অসামরিক অবকাঠামো ও বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বুলডোজারগুলো।
ডেইর আল-বালাহ এলাকার একটি হাসপাতালের কাছাকাছি চালানো এই বিমান হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যুদ্ধবিরতির আন্তর্জাতিক আইন তোয়াক্কা না করে চালানো এই আগ্রাসন গাজার অসামরিক জনজীবনকে প্রতিনিয়ত বিপন্ন করে তুলছে।
