মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

গ্রাজুয়েশনের পর ফ্রান্স থেকে বহিষ্কারের মুখে অভিবাসী শিক্ষার্থীরা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২৬, ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম

গ্রাজুয়েশনের পর ফ্রান্স থেকে বহিষ্কারের মুখে অভিবাসী শিক্ষার্থীরা

ফ্রান্সের প্যারিসের উপকণ্ঠ সেন-দেনিস। এটি দেশটির অন্যতম দরিদ্র এলাকা। এখানকার কারিগরি স্কুলগুলো থেকে প্রতি বছর শত শত অভিবাসী শিক্ষার্থী সফলভাবে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। কিন্তু শিক্ষাজীবন শেষে কর্মজীবনে প্রবেশের পরিবর্তে অনেকের কপালে জুটছে দেশ ছাড়ার নির্দেশ বা বহিষ্কারাদেশ।এটি এখন এক বড় সংকট।

উনিশ বছর বয়সী মারিয়ম তিউনিসিয়া থেকে ফ্রান্সে এসেছিলেন ১২ বছর বয়সে। বর্তমানে তিনি মেডিসিন নিয়ে ভোকেশনাল ডিগ্রি বা বিটিএস পড়ছেন। গত এপ্রিলে ডাকঘর থেকে একটি চিঠির নোটিফিকেশন পাওয়ার পর তিনি জানতে পারেন, সেটি একটি বহিষ্কারাদেশ। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পর তিনি চরম বিষণ্ণতায় ভুগেছিলেন, বুঝতে পারছিলেন না কী করবেন।মোহাম্মদের অভিজ্ঞতাও প্রায় একই রকম।

মরক্কো থেকে ১৪ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে ফ্রান্সে আসা ১৯ বছর বয়সী মোহাম্মদ বৈদ্যুতিক প্রকৌশল নিয়ে পড়াশোনা করছেন। ছুটির পর গত সেপ্টেম্বরে ফিরে এসে তিনি একই ধরনের বহিষ্কারাদেশ পান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো ওই চিঠিতে দাবি করা হয়, তিনি ট্যুরিস্ট ভিসায় আসার কারণে পড়াশোনার জন্য যোগ্য নন। যদিও তিনি যথাযথভাবে স্কুলে নথিভুক্ত ছিলেন।শিক্ষার্থীরা এখন এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

ফ্রান্সে বিভিন্ন খাতে জনবল সংকটের কারণে অভিবাসী শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিয়োগের বিশেষ সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তা কার্যকর হচ্ছে না। সেন-দেনিসের একটি কারিগরি স্কুলের একাডেমিক উপদেষ্টার তথ্যমতে, প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী হয় নথিপত্রহীন হয়ে পড়েছেন, না হয় তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। আশেপাশের অন্তত এক ডজন কারিগরি স্কুলের একই অবস্থা।আইনি সুরক্ষার অভাব প্রকট।

পিতা-মাতার সঙ্গে অননুমোদিত ভিসায় আসা শিশুরা ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত বহিষ্কারের হাত থেকে রক্ষা পায়। কিন্তু বয়সের গণ্ডি পার হওয়ার পর ফ্রান্সের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং ভবিষ্যতের পেশাগত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তারা আইনি সুরক্ষার বাইরে থেকে যায়। বিশেষ করে গত বছরের জানুয়ারিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজের অনুমতির সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ায় এই সমস্যা আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।

ফ্রান্সের বৃহত্তম শ্রমিক ইউনিয়নের মতে, ভিসা নবায়ন করতে গিয়ে অনেক সময় ১৮ মাস পর্যন্ত লেগে যায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সামগ্রিকভাবে ভিসা ইস্যুর হার ৪০ শতাংশ এবং কাজের ভিসার হার ৫০ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে। পাবলিক আইনের অধ্যাপক সার্জ স্ল্যামার মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বহিষ্কারাদেশ দিয়েছে ফ্রান্স। নির্মাণ, প্রকৌশল ও সেবামূলক খাতে কাজের সুযোগ থাকলেও প্রশাসনিক জটিলতায় মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।

banner
Link copied!