ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। তবে একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি হামলা ও অবিশ্বাসের বাতাবরণে কোনো চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষণ এখনো স্পষ্ট নয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের দক্ষিণ জলসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও নৌকায় হামলা চালিয়েছে, যার জবাবে ইরানও পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানিয়েছে।তবুও যুদ্ধবিরতি টিকে আছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেও তেহরানের বাজারে আশার সঞ্চার হয়েছে। গত সপ্তাহে ইরানের জাতীয় মুদ্রার মান ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। মঙ্গলবার সকালে ডলারের বিপরীতে রিয়ালের বিনিময় হার ছিল প্রায় ১ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন। যদিও তা গত মাসের সর্বকালের সর্বনিম্ন মান থেকে খুব একটা দূরে নয়। একইসঙ্গে তেহরান স্টক এক্সচেঞ্জের মূল সূচক ৪ মিলিয়ন পয়েন্ট অতিক্রম করেছে।শেয়ারবাজারে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য।
ইরানের সামগ্রিক অর্থনীতি এখন স্থানীয় অব্যবস্থাপনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দক্ষিণ উপকূলের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ইরানের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ভেঙে পড়ায় প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ধস নেমেছে। মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল পণ্যের মতো আমদানিকৃত জিনিসের দাম এখন সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।অনিশ্চয়তা কাটছে না সাধারণ মানুষের।
সরকার এখন খাদ্য ও ওষুধের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে। দেশজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি আকাশচুম্বী, যার ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে। ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে কর্মসংস্থানও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইন্টারনেট ব্যবস্থা পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন, তবে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন এখনো পাওয়া যায়নি।
তেহরানের বাসিন্দা ও নির্মাণ প্রকৌশলী দারিউশ জানান, যুদ্ধ বা শান্তি—কোনোটিই স্পষ্ট না হওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি চরম দুশ্চিন্তায় আছেন। অনেকের মতে, সমঝোতা হলে ইরান আগের চেয়ে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে আসতে পারে, বিশেষ করে যদি জব্দ করা অর্থ অবমুক্ত করা হয়। তবে তরুণ প্রজন্মের অনেকের ধারণা, সমঝোতা হলেও জনগণের দুর্ভোগ সহসা কমবে না।
রাজনৈতিক মহলেও চলছে ব্যাপক বিতর্ক। ইরানের কট্টরপন্থীরা ন্যূনতম ছাড় দেওয়ার পক্ষে। তাদের দাবি, দীর্ঘ ৪০ দিনের হামলা ও অবরোধ মোকাবিলা করেও ইরান টিকে আছে, তাই কোনো চাপের মুখে নতি স্বীকার করা চলবে না। সমঝোতা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এমন বিপরীতমুখী অবস্থানে থাকা তেহরান এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।
