যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি তথ্য ফাঁসের ঘটনা চিরতরে বন্ধ করতে সব ফেডারেল বা সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি বাধ্যতামূলক গোপনীয়তা চুক্তি বা নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (এনডিএ) স্বাক্ষরের প্রস্তাব এনেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। নতুন এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, সরকারের কোনো কর্মচারী এখন থেকে প্রশাসনের পূর্ব অনুমতি ছাড়া সাংবাদিকদের সাথে কোনো ধরনের তথ্য শেয়ার বা কথা বলতে পারবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট (ওপিএম) এই বিতর্কিত খসড়া প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করার পর মার্কিন প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।এই নির্দেশিকা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে হোয়াইট হাউস।
নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে কোনো কর্মচারী যদি গণমাধ্যমে ভেতরের তথ্য প্রকাশ করেন, তবে মার্কিন সরকার তার কাছ থেকে `রয়্যালটি` বা ক্ষতিপূরণ আদায়ের আইনি অধিকার রাখবে। তবে এই রয়্যালটি আদায়ের সুনির্দিষ্ট আইনি ব্যাখ্যা বা আর্থিক পরিমাণ কেমন হবে, সে বিষয়ে ওপিএম তাৎক্ষণিকভাবে বিশদ কোনো মন্তব্য করেনি। এই নীতি কার্যকর হওয়ার আগে সাধারণ জনগণ ও অংশীজনদের মতামত নেওয়ার জন্য ৩০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ফেডারেল রেজিস্টারে খসড়াটি প্রকাশের পর থেকে গণনা করা হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, সংবেদনশীল সরকারি তথ্য অননুমোদিতভাবে বাইরে চলে যাওয়ার কারণে বিভিন্ন সংস্থার অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট হচ্ছে। ওপিএম-এর মুখপাত্র ম্যাকলরিন পিনোভার এই পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে জানান, এটি সরকারি ব্যবস্থার ভেতরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার একটি প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টা। তবে সমালোচক ও মানবাধিকার কর্মীরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো মার্কিন গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা এবং প্রশাসনের ভেতরের দুর্নীতির তথ্য বাইরে আসা বন্ধ করা।
এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসন পেন্টাগনের প্রেস রুম থেকে নির্দিষ্ট কিছু গণমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করা এবং পিবিএস ও এনপিআর-এর মতো পাবলিক মিডিয়ার সরকারি অনুদান কমানোর মতো কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিল। যদিও যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁস করা আগে থেকেই আইনগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ এবং ট্রাম্প নিজেও ২০২৩ সালে গোপন নথি অপব্যবহারের অভিযোগে ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান মার্কিন সরকারি কর্মচারীদের জন্য এনডিএ প্রস্তাবটি গোপনীয়তার সেই প্রচলিত সংজ্ঞাটিকে আরও বিস্তৃত করেছে, যা কেবল গোয়েন্দা সংস্থার মাঝে সীমাবদ্ধ না রেখে সাধারণ প্রশাসনিক দপ্তরেও কার্যকর করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত এই এনডিএ চুক্তির আওতায় সংস্থার অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম, কর্মী সংক্রান্ত বিষয়, কেনাকাটা বা সংগ্রহ প্রক্রিয়া এবং জনসমক্ষে আসার আগের যেকোনো নীতিগত আলোচনার বিবরণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এমনকি চাকরি ছেড়ে দেওয়া প্রাক্তন কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে, যার ফলে অবসরের পরও অনুমতি ছাড়া সাংবাদিকদের সাথে কথা বলা আইনি জটিলতার জন্ম দেবে।
