বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

তেহরানে ভারী বোমাবর্ষণ: খামেনেইর জন্য কাঁদলেন লাখো ইরানি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২৭, ২০২৬, ০১:৫০ পিএম

তেহরানে ভারী বোমাবর্ষণ: খামেনেইর জন্য কাঁদলেন লাখো ইরানি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্মিলিত সামরিক আগ্রাসন শুরুর পর প্রথম জুমার নামাজে অংশ নিতে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন প্রধান শহরে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে। পবিত্র রমজান মাসের এই বিশেষ জুমার দিনে সমবেত হওয়া অধিকাংশ মানুষের হাতে ছিল সম্প্রতি নিহত দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইর ছবি। খামেনেইর মৃত্যুতে ইরানে শোকের গভীর আবহ তৈরি হলেও মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলার তোয়াক্কা না করেই সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন।চলতি মার্চ মাসের এই সংঘাতের সপ্তম দিনেও তেহরানের আকাশে যুদ্ধবিমানের বিকট শব্দ শোনা গেছে।

ভয়াবহ বোমাবর্ষণের অবর্ণনীয় পরিস্থিতির মাঝেই তেহরানের বিখ্যাত ইমাম খোমেনী গ্র্যান্ড মসজিদের বাইরের খোলা চত্বরে হাজার হাজার কালো পোশাক পরিহিত নারী ও পুরুষ সমবেত হন। লাউডস্পিকারে খামেনেইর স্মরণে শোকগাথা প্রচারের সময় জায়নামাজে বসে অনেককে প্রকাশ্যে অশ্রুবিসর্জন দিতে দেখা গেছে। নামাজ শেষে মুসল্লিরা যুদ্ধবিরোধী এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান দিয়ে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

রাজধানী তেহরানের পাশাপাশি পশ্চিমের ইলাম ও বোরুজের্দ এবং দক্ষিণ-পূর্বের জাহেদান শহর থেকেও একই ধরনের শোক ও প্রতিরোধের ভিডিও চিত্র সামনে এসেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ইরানের ওপর হামলার তীব্রতা নাটকীয়ভাবে বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরপরই এই জুমার জামাত অনুষ্ঠিত হলো। গত শনিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কার্যালয় লক্ষ্য করে চালানো হামলায় খামেনেই নিহত হওয়ার পর এটিই ছিল দেশের সবচেয়ে বড় সমাবেশ।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ইসরাইলি ও মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো তেহরানের একটি সামরিক একাডেমি, আবাসিক ভবন, পেট্রোল পাম্প এবং পার্কিং লট লক্ষ্য করে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। কিন্তু এই প্রবল সামরিক চাপের মুখেও ইরানি জনগণের জাতীয় পতাকা হাতে রাস্তায় নেমে আসা দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংহতিরই বহিঃপ্রকাশ। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খামেনেইর আকস্মিক মৃত্যু ইরানকে দুর্বল করার পরিবর্তে সাময়িকভাবে এক অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

banner
Link copied!