ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলাকালীন সময়েই বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়ে হামাসের সামরিক শাখার নবনিযুক্ত প্রধান মোহাম্মাদ ওদাহকে হত্যার দাবি করেছে ইসরাইল। বুধবার (২৭ মে) ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার গাজা সিটির একটি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় এই আক্রমণ পরিচালনা করা হয়। তবে হামাস বা তাদের সশস্ত্র শাখা আল-কাসসাম ব্রিগেডের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।কূটনৈতিক মহলে এই আকস্মিক হামলাকে কেন্দ্র করে নতুন উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরাইল কাৎস এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যৌথভাবে এই অপারেশনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ও অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের দাবি, ওদাহর গতিবিধি এবং তার সহযোগীদের অবস্থান ট্র্যাক করতে গত কয়েক মাস ধরে নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছিল। মোহাম্মাদ ওদাহ পূর্বে হামাসের গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং চলতি মে মাসের ১৫ তারিখে ইসরাইলি হামলায় সাবেক প্রধান ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদ নিহত হওয়ার পর তিনি কাসসাম ব্রিগেডের হাল ধরেন বলে ধারণা করা হয়।
স্থানীয় চিকিৎসা কর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গাজা সিটির ব্যস্ততম রিমাল এলাকার একটি বহুতল আবাসিক ভবনের ওপরের তিনটি তলা লক্ষ্য করে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। পবিত্র ঈদুল আজহার আগের সন্ধ্যায় যখন সাধারণ মানুষ কেনাকাটায় ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক তখন এই হামলায় ওদাহর স্ত্রী ও সন্তানসহ বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে হতাহতদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, হামাসের শাসন ও সামরিক কাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি তারা দিয়েছিলেন, এই অপারেশন তারই অংশ। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলমান যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে এই ধরনের হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ড গাজা ও লেবানন সীমান্তে চলমান শান্তি আলোচনাকে আরও বেশি অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেবে।
