ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ গরুকে দেশটির `স্বঘোষিত রাষ্ট্রমাতা` হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, নতুন করে একে জাতীয় পশু ঘোষণার কোনো প্রয়োজন নেই। সোমবার উত্তরপ্রদেশের বিজনোরে এক বিশাল জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে কট্টর হিন্দুত্ববাদী এই রাজনৈতিক নেতা এ মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, মায়ের সম্মান রক্ষার কথা কোনো সন্তানকে আলাদা করে শিখিয়ে দিতে হয় না এবং এ দেশের সাধারণ মানুষ নিজের জন্মদাত্রী মা ও গরুকে সমান শ্রদ্ধার চোখে দেখেন। যারা গরুকে স্রেফ একটি পশু বলেন, তারা মূলত পরোক্ষভাবে গো-হত্যাকেই সমর্থন করেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
আসন্ন ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ভারতে গরু কোরবানির ওপর চলমান আইনি বিধিনিষেধকে কেন্দ্র করে গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার দাবিতে বেশ কিছু মুসলিম সংগঠন ও ধর্মীয় নেতা ইদানীং সরব হয়েছেন। জমিয়ত উলেমা-এ-হিন্দের সভাপতি মৌলানা আরশাদ মাদানি সহ বেশ কয়েকজন মৌলভি ও মাওলানা এই দাবি তুলে বিভিন্ন স্থানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশও করেছেন। এর জবাবে আদিত্যনাথ স্পষ্ট জানান যে, গরুর সঙ্গে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সম্পর্ক জন্মান্তরের এবং গোমাতাকে পশু আখ্যা দিলে তা এক ধরণের পাশবিক মানসিকতার পরিচয় দেয়। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যেসব যুবক কোরবানির ঈদের দিন গোমাতার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করবে, তাদের বিরুদ্ধে এমন কঠোর আইনি পরিণতি নেওয়া হবে যা পরবর্তী কয়েক প্রজন্ম মনে রাখবে।
এদিকে প্রতিবেশী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গেও কোরবানিকে কেন্দ্র করে গরু কোরবানি না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। রাজ্যটিতে হিন্দুত্ববাদী বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের কঠোর `পশু জবাই সংক্রান্ত নির্দেশিকার` পর চলতি বছর পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমরা গরু কোরবানি থেকে ব্যাপকভাবে বিরত থাকছেন। গত ১৩ মে রাজ্য সরকারের তরফে জারি করা একটি গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, সরকারি বিশেষ অনুমতি ছাড়া কেউ কোনো গরু বা মহিষ জবাই করতে পারবেন না এবং জবাইযোগ্য পশুর বয়স কমপক্ষে ১৪ বছর হতে হবে। ঈদের ঠিক আগে আকস্মিক এই আইনি জটিলতা এবং পুলিশের হয়রানির ভয়ে ক্রেতারা গরু কেনা সম্পূর্ণ বন্ধ করে ছাগল বা ভেড়া কোরবানি দিচ্ছেন। এর ফলে মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং মালদহের মতো মুসলিম প্রধান জেলাগুলোর হিন্দু খামারি ও মুসলিম ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকার নজিরবিহীন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
