বুধবার, ০৩ জুন, ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

জিম্বাবুয়েতে ই-ট্রাইসাইকেল অভিযান: ঝুঁকিতে নারীদের জীবিকা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৩, ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম

জিম্বাবুয়েতে ই-ট্রাইসাইকেল অভিযান: ঝুঁকিতে নারীদের জীবিকা

জিম্বাবুয়ের পূর্বাঞ্চলে গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার প্রধান মাধ্যম ইলেকট্রনিক ট্রাইসাইকেলের বিরুদ্ধে ব্যাপক পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মানিকাল্যান্ড প্রদেশের হাউনা ও চিপিংগে এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই এই ধীরগতির পরিবেশবান্ধব যানগুলো জব্দ করতে শুরু করেছে। এই কঠোর অভিযানের ফলে প্রায় ৩০০ জন গ্রামীণ নারী, যাদের বেশিরভাগই একক মা এবং বিধবা, চরম অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মুখে পড়েছেনযানবাহনগুলোর বার্ষিক নিবন্ধন ও লাইসেন্স ফি নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৫০০ ডলার।

এই বিশাল অঙ্কের সরকারি ফি গ্রামীণ অঞ্চলের প্রান্তিক নারীদের বার্ষিক আয়ের তুলনায় সম্পূর্ণ আকাশচুম্বী ও নাগালের বাইরে। লিথিয়াম ব্যাটারি চালিত এবং সর্বোচ্চ ২৫ কিলোমিটার গতিসম্পন্ন এই ই-ট্রাইসাইকেলগুলো মূলত প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন করার জন্য আনা হয়েছিল। স্থানীয়ভাবে এগুলো ‍‍`হ্যাম্বা‍‍` নামে পরিচিত, যার শোনা ভাষার অর্থ হলো ‍‍`এগিয়ে যাও‍‍`। প্রতিটি ট্রাইসাইকেল প্রায় ৪৫০ কেজি পর্যন্ত কাঁচামাল বা পণ্য পরিবহন করতে সক্ষম, যা স্থানীয় কৃষকদের পণ্য বাজারে পাঠাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।

হাউনা এলাকার বাসিন্দা ডায়রেস মুতামাঙ্গিরা গত মাসে তার ই-ট্রাইসাইকেলে করে একজন যাত্রী ও তার নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদিপণ্য নিয়ে যাওয়ার সময় আচমকা পুলিশের হাতে আটক হন। পুলিশ তার কাছে যানটির অফিশিয়াল নিবন্ধন এবং চালকের লাইসেন্স দাবি করে, যা প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই দরিদ্র নারীর কাছে ছিল না। কোনো রকম আলোচনার সুযোগ না দিয়েই পুলিশ তাকে অন স্পট ১৫ ডলার জরিমানা করে, যা তার দৈনন্দিন আয়ের একটি বড় অংশ। মুতামাঙ্গিরা জানান, হাইওয়ে থেকে অনেক দূরে একটি ছোট গ্রামীণ কাঁচা রাস্তায় এই ধরনের কঠোর পুলিশি আচরণ তিনি কখনোই আশা করেননি।

এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় প্রশাসন ই-ট্রাইসাইকেলগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং ব্যাপক হারে এগুলো জব্দ করছে। জিম্বাবুয়েতে এখনো ঔপনিবেশিক আমলের প্রাচীন রোডেশিয়ান ট্রাফিক আইন কার্যকর রয়েছে, যেখানে ধীরগতির ই-ট্রাইসাইকেলগুলোকে সাধারণ মোটরসাইকেলের ক্যাটাগরিতে ফেলা হয়েছে। এই পুরনো ও সেকেলে আইনে গ্রামীণ ধীরগতির ব্যাটারি চালিত যান এবং দ্রুতগতির জ্বালানি চালিত ভারী যানের মধ্যে কোনো তফাত করা হয়নি। এর ফলে গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তারা তাদের স্বাভাবিক পরিবহন কাজ পুরোপুরি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।

 

 

 

 

পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিটি ট্রাইসাইকেল ছাড়ানোর জন্য ৯০ ডলার পর্যন্ত জরিমানা দাবি করা হচ্ছে।স্থানীয় স্টার্টআপ ‍‍`মোবিলিটি ফর আফ্রিকা‍‍` এই বিশেষ পরিবেশবান্ধব প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নিয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির হাউনা সাইট সমন্বয়কারী সিখাগেজিলে দুবে জানান, পুলিশি জটিলতা শুরু হওয়ার পর তারা একাধিকবার উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, কিন্তু আইন মানার বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়েছে। গত বছরের জুন মাসে তারা সেন্ট্রাল ভেহিকল রেজিস্ট্রি ও রাজস্ব কর্তৃপক্ষের কাছে যানগুলো নিবন্ধনের আবেদন জমা দিলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে পুরো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পটির স্বাভাবিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থবির হয়ে পড়েছে।

আয়ের প্রধান পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মুতামাঙ্গিরা এখন সন্তানদের স্কুলের বেতন ও পরিবারের খাবার জোগাতে চরম হিমশিম খাচ্ছেন। তিনি জানান, আগে যেখানে তারা দিনে স্বাভাবিকভাবে তিনবেলা খেতে পারতেন, এখন সেখানে মাত্র একবেলা খেয়ে তাদের কোনোমতে দিন পার করতে হচ্ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই যানগুলো জরুরি রোগীদের জন্য যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম বা অস্থায়ী অ্যাম্বুলেন্স হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। পুলিশি কঠোরতার কারণে এখন অসুস্থ মানুষ ও সন্তানসম্ভবা নারীদের সময়মতো হাসপাতালে নেওয়াও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

banner
Link copied!