মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক প্রতিবাদ দমনে আইনি কড়াকড়ি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২৬, ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম

যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক প্রতিবাদ দমনে আইনি কড়াকড়ি

যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক প্রতিবাদের ধরণ ও আইনি ব্যবস্থার পরিবর্তনের বিষয়ে নতুন একটি উদ্বেগজনক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডন এবং ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস-এর যৌথ গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশটিতে জলবায়ু ও ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনকারীদের ওপর দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড, আইনি কড়াকড়ি এবং বিচারের আগে মাসের পর মাস কারাগারে রাখার প্রবণতা বেড়েছে।প্রতিবাদ দমনে আইনের অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

‘ব্রিটেইন’স পলিটিক্যাল প্রিজনার্স’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে প্রতিবাদ মোকাবিলায় পুলিশ ও আদালতের হাতে নজিরবিহীন ক্ষমতা তুলে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গাজায় ইসরায়েলি যুদ্ধের প্রতিবাদে যারা অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে আইন আরও কঠোর করা হয়েছে। এর আগে এক্সটিংকশন রিবেলিয়ন বা ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটারের মতো আন্দোলনের সময়কার আইনি পরিস্থিতি ছিল বর্তমানের চেয়ে আলাদা।বিক্ষোভকারীদের জন্য আইনি পরিস্থিতি এখন কঠিন।

গাজায় ইসরায়েলি যুদ্ধের পর থেকে ফিলিস্তিনের সংহতিতে যুক্তরাজ্যজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। গাজায় যুদ্ধের ফলে ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার প্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষ সরকারের অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। কিন্তু প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি অস্ত্র কারখানায় ফিলিস্তিনপন্থী কর্মীদের লক্ষ্য করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।প্রতিবাদ দমনে দুটি বড় আইন মূল ভূমিকা রাখছে।

২০২২ সালের ‘পুলিশ, ক্রাইম, সেনটেন্সিং অ্যান্ড কোর্টস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী ‘পাবলিক নুয়েন্স’ বা জনউপদ্রবকে আনুষ্ঠানিকভাবে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এতে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। রাস্তা অবরোধ বা অবকাঠামো অচল করে দেওয়ার মতো ঘটনায় এখন অনেক বেশি কঠোর শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে প্রসিকিউটররা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ মেয়াদে জেল দেওয়ার আইনি অস্ত্র পেয়েছেন।

২০২৩ সালের ‘পাবলিক অর্ডার অ্যাক্ট’ বিক্ষোভ দমনে আরও নতুন নতুন অপরাধের তালিকা যোগ করেছে। এই আইনের আওতায় ‘লকিং অন’ বা একে অপরের সঙ্গে চেইন ও গ্লু দিয়ে আটকে থাকার মতো কৌশল ব্যবহারকারীদের শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় আনা হয়েছে। টানেলিং বা সুড়ঙ্গ তৈরির মতো কার্যক্রমও এখন দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া পুলিশের জন্য বিক্ষোভকারীকে তল্লাশির ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এটি মৌলিক স্বাধীনতার পরিপন্থী।

যুক্তরাজ্যের এই আইনি পরিবর্তন নাগরিক অধিকারের ওপর চাপ তৈরি করছে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে একক ব্যক্তির ছোট প্রতিবাদও বন্ধ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদ দমনে পুলিশের অঢেল ক্ষমতা পাওয়ার বিষয়টি সিভিল লিবার্টি গ্রুপগুলোর জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

banner
Link copied!