দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষা শেষে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ফিরেছে নরওয়ে। ১৯৯৮ সালের পর আর কোনো বিশ্বকাপে দেখা যায়নি স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটিকে। দীর্ঘ এই বিরতির পর এবার নরওয়ে বেশ শক্তিশালী এক দল নিয়ে মাঠে নামছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড এরলিং হালান্ড।এবার তাদের লক্ষ্য অনেক দূর যাওয়া।
বাছাইপর্বের আটটি ম্যাচের সবকটিতে জয় পেয়ে নরওয়ে তাদের শক্তি জানান দিয়েছে। ইতালিকে দুই দফা পর্যুদস্ত করে তারা বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছে। দলের স্কোয়াড ঘোষণার ভিডিওতে স্বয়ং নরওয়ের রাজা হারাল্ড ভি নিজেই অংশ নিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, জাতি অনেক দীর্ঘ সময় ধরে এই মুহূর্তটির জন্য অপেক্ষা করছে।এরলিং হালান্ড নরওয়ের প্রধান ভরসা।
ম্যাঞ্চেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার বাছাইপর্বে গোল ও অ্যাসিস্টের পসরা সাজিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে মাত্র ৪৬ ম্যাচে ৫০ গোল করে তিনি ইতিহাসের দ্রুততম খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড গড়েছেন। প্রিমিয়ার লিগে টানা গোল করে নিজের ফর্ম ধরে রেখেছেন ২৫ বছর বয়সী এই তারকা। তবে বড় মঞ্চে নিজের সামর্থ্যের পুরোটা দেওয়ার জন্য তিনি এখন অধীর অপেক্ষায়।ওডেগার্ডের ফিটনেস নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে।
নরওয়ের সৃজনশীলতার মূল উৎস মার্টিন ওডেগার্ড। আর্সেনালের এই অধিনায়ক মৌসুমজুড়ে চোটের সঙ্গে লড়াই করেছেন। অন্তত পাঁচবার ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে। ওডেগার্ড ফিট থাকলে হালান্ডের জন্য বলের জোগান নিশ্চিত হবে, যা নরওয়ের আক্রমণভাগকে আরও ধারালো করবে।দলের অন্যান্য খেলোয়াড়দের মধ্যেও রয়েছে বড় করার স্বপ্ন।
আরবি লাইপজিগের ২০ বছর বয়সী উইঙ্গার অ্যান্তোনিও নুসা তার গতি দিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ চিরে ফেলতে পারেন। অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের আলেকজান্ডার সারলোথ অভিজ্ঞ গোলস্কোরার হিসেবে হালান্ডের পাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। ম্যানচেস্টার সিটির অস্কার ববও তরুণ প্রতিভার প্রমাণ দিতে প্রস্তুত।কোচ স্টেল সোলবাকেল হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলানোর চেষ্টা করছেন।
২০২০ সাল থেকে দায়িত্ব নেওয়ার পর সোলবাকেল দলকে নিয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল সাজিয়েছেন। তিনি মনে করেন, দীর্ঘ সময় ধরে এই দলটির পারফরম্যান্স ধারাবাহিকভাবে উন্নত হয়েছে। প্রতিপক্ষের রক্ষণের ওপর চাপ বজায় রেখে বল দখল করে খেলা করাই তাদের প্রধান রণকৌশল।
বিশ্বকাপের এবারের আসরে নরওয়েকে বেশ কঠিন গ্রুপে লড়তে হবে। ফ্রান্স, সেনেগাল ও ইরাকের মতো শক্তিশালী দলগুলোর মুখোমুখি হবে তারা। গ্রুপ পর্বের এই বাধা টপকাতে পারলে নরওয়ে এবারের বিশ্বকাপে বড় চমক দেখানোর ক্ষমতা রাখে। হালান্ড ও ওডেগার্ডের রসায়ন যদি ঠিকঠাক কাজ করে, তবে নরওয়ে হয়তো নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে।
