তীব্র গরমের এই সময়ে চারপাশের ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা কেবল মানবজীবনেই ক্লান্তি আনে না, বরং এর একটি মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে আমাদের নিত্যসঙ্গী স্মার্টফোনের ওপর। অতিরিক্ত গেম খেলা, দীর্ঘক্ষণ ভিডিও দেখা কিংবা স্বাভাবিক ব্যবহারের সময়ও অনেকের মোবাইল ফোনটি আকস্মিকভাবে প্রচণ্ড উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এই ধরনের ওভারহিটিং বা অতিরিক্ত গরম হওয়ার ফলে ডিভাইসের কার্যক্ষমতা ধীরগতির হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যাটারির আয়ু দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।এমনকি ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণের মতো দুর্ঘটনাও এখন নিয়মিত ঘটছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের কিছু সাধারণ অসচেতনতা এবং দৈনন্দিন ভুল ব্যবহারের কারণেই মূলত স্মার্টফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে থাকে। কড়া রোদের মধ্যে সরাসরি সূর্যের আলোতে ফোন ব্যবহার করা কিংবা গাড়ির ড্যাশবোর্ডে ডিভাইসটি রেখে দেওয়া এর অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়া বিরতি না দিয়ে একটানা কয়েক ঘণ্টা ধরে হাই-গ্রাফিক্সের গেম খেলা, একটানা ভিডিও রেকর্ডিং বা লাইভ স্ট্রিমিং করলে প্রসেসরের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়। স্ক্রিনের ব্রাইটনেস সবসময় সর্বোচ্চ মাত্রায় বাড়িয়ে রাখা এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ সচল রাখাও ব্যাটারির তাপমাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
বাজারে প্রচলিত কম দামি, নিম্নমানের বা নন-ব্র্যান্ডেড নকল চার্জার ব্যবহার করা মোবাইল ফোনের সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই নকল চার্জারগুলো ডিভাইসের সঠিক ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, যার ফলে চার্জ হওয়ার সময় মোবাইল অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয় এবং ব্যাটারির অভ্যন্তরীণ কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেকেই আবার ফোন চার্জে লাগানো অবস্থাতেই গেম খেলেন বা ভিডিও দেখেন, যা উৎপন্ন তাপকে আরও বিপজ্জনক স্তরে নিয়ে যায়। ফোনের সুরক্ষায় ব্যবহৃত অতিরিক্ত মোটা বা ভারী ব্যাক কাভারও ভেতরের গরম বাতাস বাইরে বের হতে বাধা দেয়।
এই ধরনের জটিলতা থেকে মুক্তি পেতে ফোনের অপারেটিং সিস্টেম বা সফটওয়্যার নিয়মিত আপডেট করা উচিত, যা সিস্টেমকে অপ্টিমাইজ করে গরম হওয়ার প্রবণতা কমায়। ফোন বেশি গরম হয়ে গেলে সাময়িকভাবে ব্যাক কাভারটি খুলে রাখা এবং প্রসেসরের ওপর চাপ কমাতে ‘ব্যাটারি সেভার মোড’ চালু করা অত্যন্ত কার্যকর সমাধান। বাইরে বের হলে ফোনটিকে পকেটে বা ব্যাগে ছায়াযুক্ত স্থানে রাখা এবং চার্জিংয়ের সময় ফোনের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ রাখলে প্রিয় ডিভাইসটি দীর্ঘদিন সচল ও নিরাপদ থাকবে।
