পশ্চিম এশিয়ার চলমান মারাত্মক সংঘাতের মধ্যে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় এক ভারতীয় নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে ভারত, গত বুধবার টাইমস অব ইন্ডিয়া তাদের এক বিশেষ প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে। নয়াদিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে তারা মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের শুরু থেকেই বেসামরিক সাধারণ মানুষ এবং গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক পরিকাঠামোর ওপর সব ধরনের সশস্ত্র হামলার তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। একই সঙ্গে দেশটির সরকার অবিলম্বে এই ধরনের ধ্বংসাত্মক ও রক্তক্ষয়ী সামরিক তৎপরতা বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে।
কুয়েত বিমানবন্দরে হামলা সংক্রান্ত এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ও আহত ভারতীয় নাগরিকদের সব ধরনের কূটনৈতিক সহায়তা প্রদানের জন্য কুয়েত সিটিতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত ভারতের অন্যান্য কূটনৈতিক মিশন ও দূতাবাসগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এর আগে কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক জরুরি বিবৃতিতে দাবি করা হয় যে, গতকাল ভোরে ইরানের সরাসরি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরিকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে কুয়েত সিটিতে অবস্থিত কয়েকটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক স্থাপনাও এই অতর্কিত হামলার মুখে পড়ে আংশিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
কুয়েত সরকার এই সামরিক পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। নিজেদের sovereignty ও জাতীয় নিরাপত্তা সম্পূর্ণ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যেকোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে বলে কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুনর্ব্যক্ত করেছে। যা কম স্পষ্ট তা হলো, এই আকস্মিক হামলার পেছনে সুনির্দিষ্ট কী কৌশলগত কারণ ছিল এবং এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূরাজনীতিতে কতটা স্থায়ী প্রভাব পড়বে। এদিকে ইরানের এই ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি আংশিক পরিসরে পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে।
কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে হামলায় প্রধান টার্মিনাল ভবনটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় সেটি আপতত সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে বিকল্প টার্মিনাল ব্যবহার করে সীমিত পরিসরে কিছু অতি জরুরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আপাতত অন্যান্য বিদেশি এয়ারলাইন্সের নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটগুলো চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। সম্পূর্ণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছে।
