পিঠের ইনজুরির কারণে গানার্স তারকা উইলিয়াম সালিবার বিশ্বকাপ যাত্রা নিয়ে ফরাসি গণমাধ্যমে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, তা বুধবার পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ে দেশম। প্যারিসের বাইরে ফ্রান্সের প্রাক-টুর্নামেন্ট ক্যাম্পে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশম নিশ্চিত করেছেন যে, সালিবা সম্পূর্ণ ফিট আছেন এবং তাকে নিয়ে উদ্বেগের কোনো অবকাশ নেই। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দীর্ঘ মৌসুম শেষ করে মঙ্গলবার দলের ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন এই ডিফেন্ডার।
আইভরি কোস্টের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচকে সামনে রেখে দেশম জানিয়েছেন, সালিবা খেলার জন্য প্রস্তুত থাকলেও তিনি কোনো বাড়তি ঝুঁকি নিতে রাজি নন। ফরাসি কোচ বলেন, উইলিয়াম এখন ভালো আছে এবং আমরা খুব সতর্কতার সঙ্গে তার ওয়ার্কলোড ব্যবস্থাপনা করছি। যদি এটি একটি বাঁচা-মরার ম্যাচ হতো, তবে সে অবশ্যই মাঠে নামত। কিন্তু বিশ্বকাপের মতো মেগা টুর্নামেন্টের আগে খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যের সুরক্ষাই এখন আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।
বিদায়ী কোচ হিসেবে আসন্ন বিশ্বকাপটিই দেশমের শেষ অ্যাসাইনমেন্ট। এই টুর্নামেন্টের পরেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী সোমবার নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচেও তিনি স্কোয়াডের গভীরতা পরখ করতে একাদশে ব্যাপক রদবদল করবেন বলে জানিয়েছেন। বিশেষ করে প্যারিস সেন্ট জার্মেইর সেই পাঁচজন ফুটবলারকে নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে, যারা গত শনিবার বুদাপেস্টে ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট জেতার লড়াইয়ে ছিলেন। উসমান দেম্বেলে এবং দেজিরে দুয়ে-র মতো তারকাদের শারীরিক ধকল সামলাতে তাদের ফিটনেস বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ফরাসি দলের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপের ফর্ম ও মানসিক অবস্থা নিয়েও কথা বলেছেন কোচ দেশম। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ট্রফিশূন্য মৌসুম পার করার পর এমবাপের প্রতিশ্রুতি নিয়ে স্প্যানিশ সমালোচকদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে জাতীয় দলের অনুশীলনে এমবাপেকে ভিন্ন রূপে দেখছেন কোচ। দেশম জোর দিয়ে বলেছেন, এমবাপে শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। ক্লাব ফুটবলের ব্যর্থতা বা বিতর্কের প্রভাব তার ওপর নেই। এটি তার তৃতীয় বিশ্বকাপ এবং একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় হিসেবে এমবাপে খুব ভালো করেই জানেন এই টুর্নামেন্টের মর্যাদা।
যা কম স্পষ্ট তা হলো, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সালিবা কি শুরু থেকে একাদশে থাকছেন, নাকি তাকে শুরুর দিকে বিশ্রাম দেওয়া হবে। দেশম স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ফাইনালে যারা দীর্ঘক্ষণ খেলেছেন, তাদের প্রীতি ম্যাচগুলোতে বাড়তি বিশ্রাম দেওয়া হবে। রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নতুন সব নিয়মের বেড়াজাল টপকে এমবাপের নেতৃত্বে ফ্রান্স এবার বিশ্বজয়ের নকশা সাজাচ্ছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের শেষ টুর্নামেন্টকে স্মরণীয় করে রাখতে দেশম কোনো সুযোগই হাতছাড়া করতে চাইছেন না।
