নতুন পারমাণবিক বোমার জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রের উন্মোচন করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন এই স্থাপনা পরিদর্শনের সময় দেশের পারমাণবিক সক্ষমতা অকল্পনীয় হারে বৃদ্ধির কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। আলজাজিরা এবং রয়টার্স জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ কোরীয় উপদ্বীপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিম জং উন জানিয়েছেন যে অস্ত্র-গ্রেড পারমাণবিক উপাদান উৎপাদনের ক্ষমতা পাঁচ বছর আগের তুলনায় বর্তমানে দ্বিগুণেরও বেশি। ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা হুমকি এবং বৈরী দেশগুলোর সাথে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের প্রস্তুতি হিসেবেই এই সম্প্রসারণ প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। স্থাপনাটি পরিদর্শনের সময় তাকে আধুনিক প্রযুক্তির নতুন উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নতুন এই কেন্দ্রটিতে সেন্ট্রিফিউজের সারি ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণে এর ভৌগোলিক অবস্থান বা কার্যক্রম শুরুর নির্দিষ্ট সময়কাল সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পরিদর্শনের পর কিম জং উন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন, যেখানে তিনি দ্রুত পারমাণবিক শক্তি বাড়ানোর উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। প্রকাশিত কিছু ছবিতে কিমকে সেন্ট্রিফিউজ হলের রুপালি রঙের নল ও পাইপের সারির মাঝখান দিয়ে হেঁটে যেতে দেখা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরণের অত্যাধুনিক কেন্দ্রের প্রদর্শন কার্যত স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে কিম জং উন তার পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে কোনো ধরণের সমঝোতায় যেতে আগ্রহী নন। তিনি উত্তর কোরিয়াকে একটি স্থায়ী ও অজেয় পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করতে বদ্ধপরিকর। পিয়ংইয়ংয়ের এই পদক্ষেপে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। তারা একে কোরীয় উপদ্বীপের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং এর জবাবে নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যৌথ পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার প্রদর্শিত এই স্থাপনাটি উত্তর কোরিয়ার তৃতীয় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র। এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দেশটি আরেকটি গোপন কেন্দ্র উন্মোচন করেছিল। ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো পিয়ংইয়ং তাদের ইয়ংবিয়ন পারমাণবিক কমপ্লেক্সের সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সামনে প্রদর্শন করেছিল। নতুন এই স্থাপনার উন্মোচন বিশ্বজুড়ে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রচেষ্টাকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এখন দেখার বিষয়, উত্তর কোরিয়ার এই উচ্চাভিলাষী পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কীভাবে গ্রহণ করে।
