শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আলবেনিয়ায় কুশনারের রিসোর্ট প্রকল্প ঘিরে তীব্র বিক্ষোভ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৫, ২০২৬, ০৪:২১ পিএম

আলবেনিয়ায় কুশনারের রিসোর্ট প্রকল্প ঘিরে তীব্র বিক্ষোভ

আলবেনিয়ার উপকূলীয় এলাকায় জ্যারেড কুশনার এবং ইভাঙ্কা ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্ত একটি বিলাসবহুল রিসোর্ট প্রকল্প ঘিরে তীব্র জনরোষ তৈরি হয়েছে। আল জাজিরা এবং রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রকল্পটির আওতায় সাজান দ্বীপ এবং ভজোসা-নার্তা সংরক্ষিত ডেল্টা এলাকায় হোটেল ও অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। গত কয়েক দিনে নির্মাণকাজের জন্য ভারি যন্ত্রপাতি সমুদ্র সৈকতে পৌঁছানোর পর কয়েক হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, এই প্রকল্প আলবেনিয়ার প্রাকৃতিক ইতিহাস ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

ইভাঙ্কা ট্রাম্প সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, তারা নৌকায় ভ্রমণের সময় এই দ্বীপটি আবিষ্কার করেছিলেন এবং এরপরই সেখানে রিসোর্ট নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এই প্রজেক্টের সাথে যুক্ত আটলান্টিক ইনকিউবেশন পার্টনার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে আলবেনিয়া সরকার স্ট্র্যাটেজিক ইনভেস্টর হিসেবে মর্যাদা দিয়েছে। তবে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সরকার সংরক্ষিত এলাকায় নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে এবং দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে এই প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছে। পি পি এন ই এ-সহ প্রায় ৪০টি পরিবেশবাদী গোষ্ঠী এই প্রকল্প বাতিলের দাবি জানিয়ে সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছে।

আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এডু রামা এই প্রকল্পকে দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করেছেন। তার মতে, চার বিলিয়ন ইউরোর এই বিনিয়োগ আলবেনিয়াকে একটি বৈশ্বিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলবে। তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন যে, তার শাসনামলে এই বিনিয়োগ প্রকল্প কোনোভাবেই বন্ধ হবে না। তবে তার এই অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করছেন স্থানীয় মানুষ এবং অধিকারকর্মীরা। তারা বলছেন, আলবেনিয়াকে দুবাইয়ের মতো কংক্রিটের জঙ্গলে পরিণত করার কোনো প্রয়োজন নেই। প্রতিবাদকারীরা বলছেন, এই ভূমি কেবল ধনীদের বিলাসিতার জন্য নয়, বরং তা দেশের সাধারণ মানুষের ঐতিহ্য ও প্রকৃতির অংশ।

রাজধানী তিরানায় গত কয়েক রাত ধরে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। তারা হাতে গোলাপি ফ্ল্যামিংগোর কাটআউট নিয়ে উপস্থিত ছিলেন, যা ওই সংরক্ষিত এলাকার বিপন্ন প্রজাতির পাখির প্রতীক। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিচ্ছেন যে, মাতৃভূমি বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। স্থানীয় পরিবেশকর্মী ইভা কুশোভা জানিয়েছেন যে, উন্নয়নের নামে তারা প্রকৃতি ধ্বংস মেনে নেবেন না। পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের চেয়ে দেশের ইতিহাস ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা তাদের কাছে অগ্রাধিকার।

এদিকে প্রকল্পটির স্বচ্ছতা এবং অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। আলবেনিয়ার বিশেষ দুর্নীতি দমন প্রসিকিউটর অফিস এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। সংরক্ষিত এলাকায় কীভাবে নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হলো এবং জমি বরাদ্দে কোনো নিয়ম মানা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে জমি মালিকানা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, যা কমিউনিস্ট শাসনামল থেকে চলে আসা পুরনো সমস্যাগুলোর একটি। সব মিলিয়ে, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের এই রিসোর্ট প্রকল্পটি আলবেনিয়ার রাজনীতি ও পরিবেশবাদী আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

banner
Link copied!