ইংল্যান্ডে বর্তমানে প্রতি চারটি জন্মের মধ্যে একটি জরুরি সি-সেকশন বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। বিবিসির সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে। গত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে, অপ্রত্যাশিত এই অস্ত্রোপচারের হার আট শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি স্বাভাবিক প্রসবের হার আগের তুলনায় অনেকটা কমে গেছে। ডাটা বা তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এক সময় ইংল্যান্ডে অর্ধেকের বেশি প্রসব স্বাভাবিক উপায়ে হতো, তবে বর্তমানে সেই হার কমে ৪৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
জাতীয় পেরি-নেটাল এপিডেমিওলজি ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক মারিয়ান নাইট এই পরিবর্তনকে প্রসব পদ্ধতির একটি পূর্ণাঙ্গ রূপান্তর হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ইংল্যান্ডের মতো এমন দ্রুত পরিবর্তন অন্য কোনো ইউরোপীয় দেশে পরিলক্ষিত হয়নি। এনএইচএস বা জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেনি যে কেন জরুরি সি-সেকশনের হার এভাবে বাড়ছে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রসূতি ইউনিটগুলোতে ভীতি এবং কাজের চাপের কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে।
রয়্যাল কলেজ অফ অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টস জানিয়েছে, হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত চাপ এবং অস্ত্রোপচার কক্ষের সীমাবদ্ধতার কারণে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা হিমশিম খাচ্ছে। এনএইচএস ইংল্যান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রসূতির শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যাতে মা ও সন্তানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। তবে সি-সেকশন বাড়লেও মৃত বা নবজাতকের মৃত্যুর হারে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইংল্যান্ডে বর্তমানে ২০ শতাংশ শিশুর জন্ম পরিকল্পিত সি-সেকশনের মাধ্যমে এবং জরুরি সি-সেকশনের হার ২৬ শতাংশে পৌঁছেছে। ডাটা বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, জাতীয় গড়ের তুলনায় সংখ্যালঘু জাতিসত্তার ক্ষেত্রে এই হার আরও বেশি। শ্বেতাঙ্গ প্রসূতিদের তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গ ও এশীয় বংশোদ্ভূত মায়েদের ক্ষেত্রে প্রতি তিনজনের মধ্যে একজনের জরুরি সি-সেকশন করতে হচ্ছে। লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শাকিলা থাঙ্গারাথিনাম এই বৈষম্যের বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অধ্যাপক থাঙ্গারাথিনাম বলেন, প্রসবের সময় কেন অস্ত্রোপচার বাড়ছে, তার পেছনে স্পষ্ট কোনো তথ্য বা প্রমাণ নেই। তার মতে, পর্যাপ্ত এবং মানসম্মত তথ্যের অভাব রয়েছে, যার ফলে প্রকৃত কারণটি উদঘাটন করা যাচ্ছে না। মা ও সন্তানের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে সঠিক তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন। একইসঙ্গে প্রসবের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অভাব এবং প্রাতিষ্ঠানিক চাপ কীভাবে এই পদ্ধতিকে প্রভাবিত করছে, তা নিয়ে বিস্তারিত গবেষণার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
