শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিশ্বকাপ ২০২৬: মেক্সিকোর লক্ষ্য এবার ‘পঞ্চম ম্যাচ’ জয়

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৫, ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম

বিশ্বকাপ ২০২৬: মেক্সিকোর লক্ষ্য এবার ‘পঞ্চম ম্যাচ’ জয়

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে মেক্সিকো একটি পরিচিত নাম। এ পর্যন্ত ১৭ বার এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেছে তারা। তবে দেশটির ফুটবল ইতিহাসে একটি আক্ষেপ দীর্ঘদিনের। মেক্সিকান ফুটবল প্রেমীরা এই আক্ষেপকে অভিহিত করেন এল কুইন্টো পার্টিডো বা পঞ্চম ম্যাচের অভিশাপ হিসেবে। এর মানে হলো কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা অতিক্রম করতে না পারার দীর্ঘ যন্ত্রণা। ১৯৮৬ সালের পর থেকে তারা আর শেষ আটের দেখা পায়নি। তবে ২০২৬ সালের আসন্ন বিশ্বকাপে এই অভিশাপ ভাঙার স্বপ্ন দেখছে স্বাগতিকরা।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে মেক্সিকোর সেরা সাফল্য বলতে ১৯৭০ এবং ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনাল। এই দুটি আসরেরই আয়োজক ছিল তারা। এখন দীর্ঘ ৪০ বছর পর আবারও নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে নামছে এল ট্রাই বা ট্রাইকালাররা। এটি মেক্সিকোর জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। একমাত্র দেশ হিসেবে তিনবার বিশ্বকাপ আয়োজনের নজির গড়তে যাচ্ছে তারা। কোচ হাভিয়ের ভাস্কো আগিরি তার খেলোয়াড়দের নিয়ে এখন আশাবাদী। তার মতে, ঘরের মাঠের সুবিধা বা হোম অ্যাডভান্টেজ ফুটবলে এক অমূল্য সম্পদ।

১৯৯৪ থেকে ২০১৮ সালের প্রতিটি বিশ্বকাপে মেক্সিকো শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছে। এই টানা সাতবার শেষ ষোলো থেকে বাদ পড়ার যন্ত্রণাই তাদের এল কুইন্টো পার্টিডোর অভিশাপ হিসেবে পরিচিত করেছে। কোচ আগিরি নিজে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে খেলোয়াড় হিসেবে মাঠ মাতানো দলের সদস্য ছিলেন। সেই বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে বিতর্কিত ম্যাচে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে গিয়েছিল মেক্সিকো। আগিরি নিজে সেই ম্যাচে লাল কার্ড দেখে মাঠের বাইরে গিয়েছিলেন। খেলোয়াড়ী জীবনের সেই আক্ষেপ এবার কোচ হিসেবে ঘুচিয়ে দিতে চান তিনি।

দলের সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন রাউল হিমেনেজ। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে তার দিকেই তাকিয়ে থাকবে পুরো জাতি। কোচ আগিরি তার ওপর অগাধ আস্থা রেখেছেন। অতীতের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে আগিরি দলকে সাজাচ্ছেন। ২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পরাজয় কিংবা ২০১০ সালে আর্জেন্টিনার কাছে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা তার কোচিং ক্যারিয়ারে রয়েছে। তবে এবার তিনি ভিন্ন পথে হাঁটছেন। নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মেক্সিকোর ফুটবল ভক্তদের জন্য এবার কোয়ার্টার ফাইনালের চেয়েও বড় কোনো সাফল্যের আশা দেখাচ্ছেন তিনি।

বিশ্বকাপে স্বাগতিক হিসেবে খেলা সব সময়ই একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং বড় সুযোগ। ইংল্যান্ডের উদাহরণ টেনে আগিরি তার খেলোয়াড়দের উদ্বুদ্ধ করছেন। কারণ ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড নিজের মাটিতেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। মেক্সিকোর খেলোয়াড়রাও কি সেই কীর্তি দেখাতে পারবে? মেক্সিকোর বর্তমান স্কোয়াড ভারসাম্যপূর্ণ। নতুন ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সংমিশ্রণে তারা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। পুরো জাতি এখন অধীর অপেক্ষায় তাকিয়ে আছে উদ্বোধনী বাঁশির দিকে। কি হবে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে মেক্সিকো এবার কেবল অংশগ্রহণের জন্য নয়, বরং ইতিহাসের পাতায় নিজেদের নাম উজ্জ্বল করার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামছে।

banner
Link copied!