শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পেরুর রান-অফ নির্বাচন: ক্ষমতায় যাওয়ার লড়াইয়ে দুই প্রার্থী

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৫, ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম

পেরুর রান-অফ নির্বাচন: ক্ষমতায় যাওয়ার লড়াইয়ে দুই প্রার্থী

ছবি : সংগৃহীত

পেরুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত রান-অফ ভোট আগামী রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি এবং অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত দেশটির ভোটাররা এখন দুই ভিন্ন মতাদর্শের প্রার্থীর মধ্যে থেকে তাদের নেতা বেছে নেওয়ার অপেক্ষায়। এবারের লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছেন ডানপন্থী কেইকো ফুজিमोरी এবং বামপন্থী রবার্তো সানচেজ। গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার নির্বাচনের দীর্ঘ আট সপ্তাহ পর ভোটাররা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ভোটকেন্দ্রে ফিরছেন।

কেইকো ফুজি পেরুর রাজনীতিতে এক পরিচিত নাম। তিনি দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিআরির কন্যা এবং এটি তার চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রচেষ্টা। তিনি তার প্রচারাভিযানে মূলত আইন-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন। পেরুর রাজধানী লিমাসহ বড় শহরগুলোতে সহিংসতা ও চাঁদাবাজি বেড়ে যাওয়ায় ভোটারদের একটি বড় অংশ নিরাপত্তার প্রশ্নে তাকেই এগিয়ে রাখছেন। তার সমর্থকরা বিশ্বাস করেন, অতীতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি দেশকে স্থিতিশীল করতে সক্ষম হবেন।

অন্যদিকে রবার্তো সানচেজ বামপন্থী ঘরানার রাজনীতিতে বিশ্বাসী এবং তিনি কারাবন্দী সাবেক প্রেসিডেন্ট পেদ্রো কাস্তিলোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। সানচেজ তার নির্বাচনী প্রচারণায় আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি দেশের ধনী খনি শিল্পে উচ্চ কর আরোপ এবং নতুন করে সংবিধান সংশোধনের কথা বলছেন, যা দরিদ্র ও গ্রামাঞ্চলের মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। যারা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান অর্থনৈতিক বৈষম্য ও দুর্নীতিতে অতিষ্ঠ, তারা সানচেজের পক্ষ নিয়েছেন। তবে সমালোচকরা আশঙ্কা করছেন, সানচেজের এই প্রস্তাবনাগুলো বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত করতে পারে।

গত ১২ এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচনে পেরুর নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল। ব্যালট পেপার সময়মতো না পৌঁছানো, ভোটকেন্দ্র দেরিতে খোলা এবং কারচুপির অভিযোগে দীর্ঘ এক মাস ভোট গণনা প্রক্রিয়া চলেছিল। তৃতীয় স্থান অর্জনকারী প্রার্থী রাফায়েল লোপেজ আলিয়াগা প্রথম দফার ফলাফলকে প্রতারণাপূর্ণ বলে দাবি করলেও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা কারচুপির কোনো প্রমাণ পাননি। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেশটির নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি মানুষের অনাস্থা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

গত এক দশকে পেরুতে আটজন প্রেসিডেন্ট পরিবর্তন হয়েছে, যা দেশটির রাজনৈতিক ভঙ্গুরতাকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে যিনিই জয়ী হোন না কেন, তাকে অত্যন্ত বিভক্ত একটি পার্লামেন্ট এবং সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের মুখোমুখি হতে হবে। রোববার সাত জুন অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে প্রায় আড়াই কোটি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এটি কেবল দুইজন প্রার্থীর লড়াই নয়, বরং পেরুর রাজনৈতিক দিক পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। নির্বাচনের ফলাফল দেশটির ভবিষ্যৎ উন্নয়ন এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার পথ সুগম করবে কি না, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ।

banner
Link copied!