শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কিউবার প্রেসিডেন্ট ও সংশ্লিষ্টদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৫, ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম

কিউবার প্রেসিডেন্ট ও সংশ্লিষ্টদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল এবং তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বৈরী সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় এটি ওয়াশিংটনের নেওয়া সর্বশেষ পদক্ষেপ। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় প্রেসিডেন্ট ছাড়াও তার স্ত্রী লিস কুয়েস্তা পেরাজা, কাস্ত্রো পরিবারের দুজন সদস্য এবং কিউবার বিপ্লবী সশস্ত্র বাহিনী মন্ত্রণালয়সহ মোট পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল ৬৬ বছর বয়সী একজন নেতা, যিনি ২০১৮ সাল থেকে ক্যারিবীয় অঞ্চলের এই দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিউবার দীর্ঘদিনের বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর ভাই রাউল কাস্ত্রোর উত্তরসূরি হিসেবে তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রে আসেন। কিউবার কমিউনিস্ট নেতাদের ওপর ক্রমাগত চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ বিষয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এবং কিউবার শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

মার্কিন এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছে কিউবা সরকার। কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এই নিষেধাজ্ঞাকে নিন্দনীয় বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি একে মার্কিন হস্তক্ষেপের একটি বড় উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বন্দ্বের পরিস্থিতি আরও উসকে দেওয়ার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপ ব্যর্থ হতে বাধ্য। কিউবা সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে যে, তারা কোনো ধরনের বাইরের চাপে নীতি পরিবর্তন করবে না।

এর আগেও গত মাসে মার্কিন সরকার কিউবার তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রী, কয়েকজন সামরিক কমান্ডার এবং প্রধান গোয়েন্দা সংস্থাসহ মোট ১১ জন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, কিউবার বর্তমান শাসন ব্যবস্থা সাধারণ জনগণের মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করছে। অন্যদিকে, রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ১৯৯৬ সালের একটি ঘটনার জেরে হত্যার অভিযোগও এনেছে মার্কিন প্রশাসন। সে সময় কিউবা থেকে পালানো একটি দলের পরিচালিত বিমান লক্ষ্য করে কিউবার যুদ্ধবিমান গুলি চালিয়েছিল, যা নিয়ে কয়েক দশক ধরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কিউবার শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের মাধ্যমে ওয়াশিংটন দেশটির অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত করতে চায়। তবে বর্তমান নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় কিউবা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আপসের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। উল্টো তারা এই পদক্ষেপগুলোকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে। কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই কূটনৈতিক অচলাবস্থা এবং একের পর এক নিষেধাজ্ঞার ফলে ক্যারিবীয় অঞ্চলে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

banner
Link copied!