শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৫, ২০২৬, ১০:১২ পিএম

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান কক্সবাজারের উখিয়ায় অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। শুক্রবার বিকেলে তিনি উখিয়ার বালুখালী এলাকায় তুরস্কের অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। ঢাকা থেকে বিমানযোগে কক্সবাজারে পৌঁছানোর পর তিনি সরাসরি রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে যান। ৯ নম্বর ক্যাম্পে তুরস্কের সহায়তায় স্থাপিত ফিল্ড হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম সরাসরি পরিদর্শন করেন তিনি।

পরিদর্শনের সময় তিনি ক্যাম্পে চিকিৎসাধীন রোহিঙ্গা রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের স্বাস্থ্যসেবার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। এরপর তিনি ১৬ ও ১৭ নম্বর ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং সেখানকার তুরস্কের নির্মিত হাসপাতালগুলোর সেবার মান পর্যবেক্ষণ করেন। তার সফরসঙ্গী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ক্যাম্পে তুরস্কের বিশাল মানবিক কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি তুর্কি সরকারের সংহতি প্রকাশ করেন।

তুরস্কের এই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তার এই গুরুত্বপূর্ণ সফরটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরেই রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি তাদের প্রত্যাবাসনের পক্ষে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত এই জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে উদারতা দেখিয়েছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করেছে তুরস্ক।

এদিনের সফরেও হাকান ফিদান রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে তুরস্কের অব্যাহত সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে। কক্সবাজারে তার এই উপস্থিতি রোহিঙ্গা সংকটকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ সফরকালে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পাশাপাশি রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন, যা দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

banner
Link copied!