২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে নাটকীয় জয় পেয়েছে আইভরি কোস্ট। ফিলাডেলফিয়ার স্টেডিয়ামে ৬৮,২৭৪ জন দর্শকের সামনে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোলে ১-০ ব্যবধানের জয় তুলে নিয়েছে আইভরি কোস্ট। ম্যাচের ৯০তম মিনিটে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের উইঙ্গার আমাদ দিয়ালোর দুর্দান্ত গোলটিই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে দেয়। দীর্ঘ ১২ বছর পর বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ফিরে এসেই দলটি তাদের প্রথম ম্যাচটি জয় দিয়ে রাঙালো, যা তাদের নকআউট পর্বে যাওয়ার স্বপ্নকে আরও জোরালো করল।
ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনার। ইকুয়েডর ম্যাচের শুরু থেকে আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করেছিল। তবে তাদের দুর্ভাগ্যের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল গোলপোস্ট। প্রথমার্ধেই ইকুয়েডর তিনবার বল পোস্টে মেরেছে, যার ফলে গোলবঞ্চিত থাকতে হয়েছে তাদের। জন ইয়েবোয়াহ এবং আলান মিন্ডা প্রথমার্ধে গোলপোস্টে বল লাগিয়ে দর্শকদের হতাশ করেন। দ্বিতীয়ার্ধে ইকুয়েডরের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার এনার ভ্যালেন্সিয়াও গোল করতে ব্যর্থ হন, কারণ তার শটটিও পোস্টে লেগে ফিরে আসে। আইভরি কোস্টও পিছিয়ে ছিল না; ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে এলিয়ে ওয়াহি গোলপোস্টে বল মেরে দলকে গোলবঞ্চিত করেন।
ম্যাচের ৬৮তম মিনিট পর্যন্ত ইকুয়েডর গোলের সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছিল। প্রথমবারের মতো ইকুয়েডরের খেলোয়াড় গঞ্জালো প্লাটা গোলমুখে শট নিলে আইভরি কোস্টের গোলরক্ষক ইয়াহিয়া ফোফানা তা ঠেকিয়ে দেন। পুরো ম্যাচ জুড়ে ইকুয়েডর রক্ষণভাগ বেশ শক্ত অবস্থানে ছিল এবং গোল খাওয়ার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছিল না। তবে অতিরিক্ত সময়ের ঠিক আগের মুহূর্তে চিত্রপট বদলে যায়। উইলফ্রিড সিঙ্গোর চমৎকার পাস থেকে বল পেয়ে আমাদ দিয়ালো খুব সুন্দরভাবে গোলটি করে আইভরি কোস্টকে এগিয়ে দেন।
এই জয়টি আইভরি কোস্টের ফুটবল ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রুপ ই-তে থাকা অন্য দলগুলো হলো জার্মানি এবং কুরাকাও। এখন পরবর্তী দুটি ম্যাচে অন্তত একটি ড্র করলেই তাদের নকআউট পর্বে খেলার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠবে। আমাদ দিয়ালো ম্যাচ শেষে তার প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, তারা এখানে ইতিহাস গড়তে এসেছেন এবং প্রতিটি ম্যাচ একইভাবে জয়ের মানসিকতা নিয়ে খেলতে চান। তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে ক্লাব ফুটবলে সংগ্রাম করলেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে এসে দলের জন্য ঠিকই নিজেকে প্রমাণ করলেন।
ইকুয়েডরের কোচ সেবাস্টিয়ান বেকাসেসের অধীনে দলটি গত ১৯ ম্যাচে মাত্র একবার হেরেছিল এবং ১২টি ম্যাচে কোনো গোল হজম করেনি। সেই শক্তিশালী রক্ষণভাগকে ভেঙে জয় পাওয়া আইভরি কোস্টের জন্য বড় কৃতিত্ব। ইকুয়েডরের জন্য এখন পরবর্তী লড়াই কুরাকাওয়ের বিপক্ষে, আর আইভরি কোস্ট তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে শক্তিশালী জার্মানির মুখোমুখি হবে আগামী ২০ জুন। টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে সেই ম্যাচের ওপরই এখন নির্ভর করছে গ্রুপ ই-এর ভাগ্য। সমর্থকরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই তরুণ আইভরি কোস্ট দলটি বড় দলগুলোর বিপক্ষে কতটা লড়াই করতে পারে তা দেখার জন্য।
