কিউবার পশ্চিম উপকূলের অদূরে দক্ষিণ মেক্সিকো উপসাগরে ৬.১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল কিউবার মানতুয়া শহর থেকে প্রায় ৬৪.৯ মাইল পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিমে। ভূকম্পনটি এতই শক্তিশালী ছিল যে এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার দক্ষিণাঞ্চল এবং মেক্সিকোর কিছু অংশে কম্পন অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার দ্রুত একটি বিবৃতি প্রদান করেছে। বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই ভূমিকম্পের ফলে কোনো সুনামি সৃষ্টির আশঙ্কা নেই। ফলে উপকূলবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে ভূমিকম্পের তীব্রতা থাকায় ফ্লোরিডা ও মেক্সিকোর অনেক বাসিন্দা নিজেদের ঘরবাড়িতে কম্পন অনুভব করার কথা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও পোস্টে দেখা গেছে, কম্পনের সময় অনেক ঘরের আসবাবপত্র এবং গাছপালা হালকাভাবে দুলছিল।
ফ্লোরিডার পাম বিচ এবং হলিউড শহরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা সোফায় বসে থাকাকালীন বা ঘরের ভেতরে থাকা অবস্থায় কম্পন টের পেয়েছেন। তবে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। মেক্সিকোর প্লায়া দেল কারমেনের এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, তিনি প্রায় এক মিনিট ধরে প্রবল কম্পন অনুভব করেছেন, যা তার অভিজ্ঞতায় লস অ্যাঞ্জেলেসের ভূমিকম্পের চেয়েও বেশি ভয়াবহ মনে হয়েছে।
ভূমিকম্পটি কিউবার মূল ভূখণ্ডের কিছুটা দূরে হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভূতাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এই অঞ্চলটি ভূকম্পনপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ৬.১ মাত্রার এই কম্পনটি বেশ উল্লেখযোগ্য। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং পরবর্তী কোনো আফটারশক বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও, জরুরি বিভাগগুলোকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।
