আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ছয় মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার রয়টার্স জানিয়েছে, স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪,০৬৩.৮৭ ডলারে লেনদেন হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে উদ্বেগের ফলে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের বাজার থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। গত বছরের নভেম্বরের পর থেকে এটিই স্বর্ণের সর্বনিম্ন দর।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা এবং অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতিকে নতুন করে প্রভাবিত করছে। স্বর্ণ সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির সময় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য হলেও, উচ্চ সুদের হার থাকার কারণে এই মূল্যবান ধাতুর আকর্ষণ কমে গেছে। যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বৃদ্ধি করে বা তা দীর্ঘ সময় অপরিবর্তিত রাখে, তখন স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদ বিনিয়োগকারীদের কাছে কম লাভজনক মনে হয়। এছাড়া পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্টের খনি থেকে স্বর্ণের সরবরাহ বৃদ্ধির পূর্বাভাসও আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর চাপ তৈরি করেছে।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় ধরনের এই দরপতনের প্রভাব এখন দেশের বাজারে পড়ার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসেনি, তবুও দাম কমার অপেক্ষায় আছেন সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা। জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত স্বর্ণের দামের এই অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে আছেন, যা বাজারের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করবে।
