ওমানের সোহার উপকূলে তেলবাহী ট্যাঙ্কার সেত্তেবেলোতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। রয়টার্স জানিয়েছে, ভারতের জাহাজ চলাচল বিষয়ক মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল আনুষ্ঠানিকভাবে এই তিন নাবিকের মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত বুধবার জাহাজটিতে হামলার পর তিনজন নিখোঁজ ছিলেন। মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত অবরোধের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা অ্যামব্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওমানের সোহর বন্দর থেকে প্রায় ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করে। এতে সাথে সাথে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পালাউ-পতাকাবাহী এই জাহাজটিতে মোট ২৮ জন নাবিক ছিলেন, যার মধ্যে ২৪ জন ভারতীয় নাগরিক। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মাস্কাটে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের তৎপরতায় ২১ জন নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। নিখোঁজ থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে ওমান কর্তৃপক্ষের সহায়তায় দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালানোর পর তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরে মার্কিন বাহিনী ও ইরানপন্থী লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অবরোধ অমান্যকারী জাহাজগুলোর ওপর তারা নজরদারি বাড়িয়েছে এবং নিয়ম না মানলে ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে এই হামলায় বেসামরিক নাবিকদের মৃত্যুর ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের দ্বিতীয় দিনে এই ঘটনাটি ঘটেছে। এর আগের দিনগুলোতেও উভয় দেশ একে অপরের লক্ষ্যবস্তুতে সামরিক হামলা চালিয়েছে। অ্যামব্রের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, অবরোধ সংশ্লিষ্ট অভিযানের নামে জাহাজগুলোতে হামলার সময় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি প্রায়শই উপেক্ষিত থাকছে। ভারত সরকার এই ঘটনার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং কূটনৈতিক চ্যানেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অঞ্চলটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং ইরানের প্রতিক্রিয়ার ফলে সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
