থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি মন্দিরে ভয়াবহ বোমা হামলার প্রায় এক দশক পর দেশটির একটি আদালত দুই ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন। ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে সংঘটিত এই হামলাটি থাইল্যান্ডের ইতিহাসে অন্যতম নৃশংস ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত। আদালত ইউসুফু মিয়েরাইলি এবং বিলাল মোহাম্মদ নামের দুই উইঘুর নাগরিককে পূর্বপরিকল্পিত হত্যা এবং হত্যাচেষ্টার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে এই সর্বোচ্চ সাজা ঘোষণা করেছেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে বৃহস্পতিবার বিচারকরা তাদের রায় প্রদান করেন।
২০১৫ সালের ১৭ আগস্ট ব্যাংককের বাণিজ্যিক এলাকার কেন্দ্রে অবস্থিত এরাওয়ান হিন্দু মন্দিরে এই বিস্ফোরণ ঘটেছিল। মন্দিরের ভেতরে রাখা একটি ব্যাকপ্যাকের মধ্যে শক্তিশালী বিস্ফোরক দ্রব্য স্থাপন করা হয়েছিল। এই ভয়াবহ হামলায় ২০ জন নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছিলেন এবং আহত হয়েছিলেন শতাধিক ব্যক্তি। নিহতদের মধ্যে বিদেশি পর্যটকেরাও ছিলেন, যা থাইল্যান্ডের পর্যটন শিল্পে সেই সময় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল।
মামলার বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে প্রায় ১০ বছর সময় লেগেছে। কোভিড-১৯ মহামারির কারণে আদালতের কার্যক্রম বারবার স্থগিত হওয়া এবং দোভাষী সংকটের ফলে এই দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছিল। আসামিরা তাদের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। তবে চারজন বিচারকের বেঞ্চ তাদের রায়ে উল্লেখ করেছেন যে, আসামিরা তাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একাধিক আইন লঙ্ঘন করেছেন, যার ফলে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা ছাড়া আদালতের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই।
এই রায়টি থাইল্যান্ডের বিচার ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই মামলার নিষ্পত্তি হওয়ায় ভুক্তভোগীদের স্বজনদের কিছুটা হলেও ন্যায়বিচার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়েছে। ঘটনার প্রায় এক দশক পর এ ধরনের রায় আন্তর্জাতিক মহলেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তবে আসামিপক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। থাইল্যান্ডের কঠোর নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী এখন তাদের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের ওপর নজর থাকবে সারা বিশ্বের।
