বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

এয়ার ইন্ডিয়া দুর্ঘটনা: পাইলটের সুনাম রক্ষায় লড়াই বাবার

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ১০, ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম

এয়ার ইন্ডিয়া দুর্ঘটনা: পাইলটের সুনাম রক্ষায় লড়াই বাবার

ছবি : সংগৃহীত

গত বছরের জুনে আহমেদাবাদ থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই বিধ্বস্ত হয় এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট ১৭১। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ২৬০ জন যাত্রী ও ক্রু নিহত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও, এর তদন্ত এখনো চলমান। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। শীঘ্রই এ বিষয়ে নতুন করে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশের কথা রয়েছে। এমন সময়ে এসে দুর্ঘটনায় নিহত সিনিয়র পাইলট সুমিত সাভারওয়ালের বাবা পুষ্কর রাজ সাভারওয়াল ছেলের সুনাম রক্ষায় নিজের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

দুর্ঘটনার পর থেকে গণমাধ্যমে আসা বিভিন্ন খবরের তীব্র বিরোধিতা করে আসছেন পুষ্কর রাজ সাভারওয়াল। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, ককপিটে থাকা সিনিয়র পাইলট সুমিত সাভারওয়াল সম্ভবত ইঞ্জিনের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এসব প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই পাইলটদের বিভিন্ন সংগঠন এর কড়া সমালোচনা করেছে। তারা এই ধরনের খবরকে যাচাইহীন এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে অভিহিত করেছে।

ভারতের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো অর্থাৎ এএআইবি গত বছর একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, উড্ডয়নের পরপরই ইঞ্জিনের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণকারী সুইচগুলো রান থেকে কাট-অফ অবস্থানে সরে গিয়েছিল। ককপিটের অডিও রেকর্ডিংয়ে একজন পাইলটকে অপরজনকে জিজ্ঞেস করতে শোনা গেছে যে কেন তিনি জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করেছেন, যার জবাবে অপর পাইলট বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তবে তদন্তকারীরা স্পষ্ট করেননি যে ওই কথাগুলো ঠিক কোন পাইলট বলেছিলেন। এই অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়ে কিছু সংবাদমাধ্যম সুমিত সাভারওয়ালের দিকে আঙুল তোলার চেষ্টা করেছে বলে দাবি করেছেন তার পরিবার।

ছেলের মর্যাদা রক্ষার জন্য পুষ্কর রাজ সাভারওয়াল ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তিনি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি স্বাধীন তদন্তের আবেদন জানান। আদালত তখন বলেছিল যে, প্রাথমিক প্রতিবেদনে সুমিত সাভারওয়ালের কোনো দোষ থাকার ইঙ্গিত নেই এবং তাকে দোষারোপ করার কোনো সুযোগ নেই। এরপরও গণমাধ্যমে চলতে থাকা নানা ধরনের অনুমান এবং খবর সাভারওয়াল পরিবারের জন্য চরম মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাইলটের বাবা বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান যে, তার ছেলে বেঁচে নেই কিন্তু বাবার দায়িত্ব হিসেবে তিনি ছেলের সুনাম রক্ষা করতে চান। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কোনো পক্ষ থেকে উপসংহারে পৌঁছানো বা কাউকে অভিযুক্ত করার যে প্রবণতা তা দুর্ভাগ্যজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে আসন্ন তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর। পরিবারের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে যে, ওই প্রতিবেদনে ঘটনার প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে এবং সমস্ত জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটবে।

banner
Link copied!