বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

তাকদির ও রিজিকের প্রতি সন্তুষ্টি: মুমিনের ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৯, ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম

তাকদির ও রিজিকের প্রতি সন্তুষ্টি: মুমিনের ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ

তাকদির অনুযায়ী যখন কোনো কিছু সংঘটিত হয়, তখন তাকে তাকদিরের ফয়সালা বলা হয়। এই ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করাকে পরিভাষায় রিজা বলা হয়। আল্লাহর সিদ্ধান্তের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা ঈমানের একটি অপরিহার্য দাবি। এই সন্তুষ্টির অর্থ হলো মহান আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত তাকদিরের ব্যাপারে অন্তরকে প্রশান্ত রাখা, প্রফুল্লচিত্ত থাকা এবং মানসিকভাবে ভেঙে না পড়া। যদিও আমাদের ওপর আপতিত বিপদটি ব্যক্তিগতভাবে অপছন্দনীয় হতে পারে, তবুও তা মেনে নেওয়াই প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।

আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস রাখা উচিত যে, আল্লাহ তায়ালা আমাদের ভাগ্যে যা কিছু নির্ধারণ করেছেন, তা ভালো হোক বা মন্দ, পছন্দনীয় হোক বা অপছন্দনীয়, সে ব্যাপারে মনের মধ্যে কোনো অভিযোগ রাখা যাবে না। অস্থির না হয়ে প্রশান্তচিত্তে মেনে নেওয়া এবং এটা বিশ্বাস করা যে, আমাদের সার্বিক জীবনে আগত আনন্দ-বেদনা, রোগ-শোক, বিপদাপদ এবং আল্লাহর সব আদেশ-নিষেধ আমাদের দ্বীন ও দুনিয়ার জীবনের জন্য সর্বাধিক কল্যাণকর ও ইনসাফপূর্ণ। এই বিশ্বাস মানুষকে পার্থিব জীবনের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেয়।

রিজিকের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। আল্লাহ তায়ালা তার প্রতিটি বান্দার জন্য রিজিক বণ্টন করে রেখেছেন। মানুষ যখন আল্লাহ প্রদত্ত রিজিকের প্রতি সন্তুষ্ট থাকে, তখন তার জীবিকায় বরকত লাভ হয়। পক্ষান্তরে, সেই রিজিকের ওপর সন্তুষ্ট না থাকলে জীবিকার বরকত চলে যায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ বান্দাকে প্রদত্ত জিনিসের মাধ্যমে পরীক্ষা করে থাকেন। আল্লাহ তার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন, তাতে যদি সে সন্তুষ্ট থাকে, তাহলে আল্লাহ তাতে বরকত দান করেন এবং তাকে বৃদ্ধি করে দেন। আর যদি সে সন্তুষ্ট না থাকে, তাহলে আল্লাহ তাতে বরকত দেন না (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ২০২৭৯; সহিহুল জামে, হাদিস : ১৮৬৯)।

আমরা যখন আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর অসন্তুষ্টি প্রকাশ করি, তখন আসলে আমরা আমাদের অজান্তেই বরকতের উৎস থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলি। অকৃতজ্ঞতা মানুষকে সংকীর্ণমনা করে তোলে এবং সে সবসময় অভাব বোধ করে। কিন্তু যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে এবং তার বণ্টন করা রিজিকের ওপর সন্তুষ্ট থাকে, সে মানসিকভাবে সবসময় তৃপ্ত থাকে। এই তৃপ্তিই হলো প্রকৃত সম্পদ।

তাই জীবনের কঠিন সময়ে, অভাবের মুহূর্তে বা কোনো প্রত্যাশিত চাওয়া অপূর্ণ থেকে গেলে হতাশ না হয়ে আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রাখা প্রয়োজন। তিনি যা দিয়েছেন, তার ওপর শুকরিয়া আদায় করা এবং যা দেননি, তার জন্য ধৈর্য ধারণ করা একজন মুমিনের কাজ। এই ধৈর্য এবং সন্তুষ্টির মাধ্যমেই মানুষ প্রকৃত প্রশান্তি খুঁজে পায় এবং পরকালে তার এই ধৈর্য অসীম পুরস্কার বয়ে আনে। আমরা যদি আমাদের জীবনযাত্রায় তাকদিরের প্রতি এই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে পারি, তবে আমাদের সব ধরনের অশান্তি ও হতাশা দূর হয়ে যাবে।

banner
Link copied!