ফুটবল মানেই বাংলাদেশের মানুষের কাছে এক আলাদা আবেগ। চার বছর পরপর আসা এই বিশ্বমঞ্চের লড়াই দেখার জন্য দেশের কোটি ফুটবলপ্রেমী মুখিয়ে থাকেন। তবে ২০২৬ সালের আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে সম্প্রতি দেশের মানুষের মনে সংশয় দেখা দিয়েছিল। টেলিভিশনের পর্দায় প্রিয় দলের খেলা সরাসরি দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল ব্ল্যাকআউটের শঙ্কা। সেই অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে সুখবর এসেছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বলিষ্ঠ পদক্ষেপ এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহযোগিতায় এখন নিশ্চিতভাবে বলা যায়, বাংলাদেশের দর্শকরা নির্বিঘ্নে উপভোগ করতে পারবেন ফুটবল মহাযজ্ঞ।
এই সংকট নিরসনের নেপথ্যে কাজ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই জটিল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করেন। মূলত একটি সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রাথমিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরই মন্ত্রণালয় সরাসরি ফিফার সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেয়। এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন নবনির্বাচিত বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। ফিফার সঙ্গে সরাসরি সেতু বন্ধন তৈরি করে চুক্তি স্বাক্ষরের পথ প্রশস্ত করেন তিনি। কোনো তৃতীয় পক্ষের অহেতুক হস্তক্ষেপ ছাড়াই এই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়েছে।
ফিফা বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে এর আগে যে প্রস্তাব এসেছিল, তা ছিল অত্যন্ত চড়া মূল্যের। একটি প্রতিষ্ঠান প্রায় দুইশ কোটি টাকার বিনিময়ে এই স্বত্ব কেনার প্রস্তাব দেয়, যা করদাতাদের অর্থের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করত। তবে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং সরকার এই অযৌক্তিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম ছাড়াই মাত্র ৩৮.৫ লাখ মার্কিন ডলারে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী যা প্রায় ৪৭ কোটি টাকা।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই অর্থের জোগান দিতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল বিটিভিকে কোনো আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হয়নি। বরং বিভিন্ন টেলিকম কোম্পানি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং স্পনসরশিপ থেকে অর্জিত আয়ের মাধ্যমেই এই ব্যয়ের সিংহভাগ উঠে আসবে। আগের সরকারগুলোর সময়ে বিটিভি বিপুল অর্থ খরচ করেও লাভের মুখ দেখতে পারেনি, যা নিয়ে জনমনে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল। বর্তমান সরকার সেই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী মডেলে সম্প্রচার স্বত্ব নিশ্চিত করেছে।
প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী দাবি করেছেন, দুর্নীতির পথ বন্ধ করে এবং দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করার ফলেই এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। তিনি মনে করেন, সরকারের সদিচ্ছা থাকলে জনগণের অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব। ফুটবল ভক্তদের জন্য এটি একটি বড় বিজয়। এখন কোটি মানুষের ড্রয়িংরুমে পৌঁছে যাবে ফুটবল উত্তাপ। কোনো লোকসান ছাড়াই দেশের মানুষ বিশ্ব ফুটবলের এই আনন্দ উপভোগ করতে পারবে, যা ডিজিটাল বাংলাদেশের এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
