মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: মেক্সিকোতে বিনামূল্যে ৭০ লাখ কনডম বিতরণ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৯, ২০২৬, ১০:০১ পিএম

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: মেক্সিকোতে বিনামূল্যে ৭০ লাখ কনডম বিতরণ

ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে বিশ্বজুড়ে উন্মাদনা যখন তুঙ্গে, তখন জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক ব্যতিক্রমী ও বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে আয়োজক দেশ মেক্সিকো। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী, বিশ্বকাপ চলাকালে যৌনবাহিত রোগ বা এসটিডি প্রতিরোধে মেক্সিকোর স্বাগতিক শহরগুলোতে ৬০ থেকে ৭০ লাখ কনডম বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। মূলত মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা এবং মনতেরেকে কেন্দ্র করে এই কর্মসূচি পরিচালিত হবে। বিশ্বকাপের বিশাল এই আসরে আগত পর্যটক ও দর্শকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কনডম বিতরণের পাশাপাশি দর্শকদের জন্য এইচআইভি, সিফিলিস ও গনোরিয়ার মতো যৌনবাহিত রোগ সম্পর্কে সচেতনতামূলক লিফলেটও বিতরণ করা হবে। এই উদ্দেশ্যে বিমানবন্দর, পর্যটন এলাকা, বার, রেস্তোরাঁ এবং ভক্তদের সমাগমস্থলে বিশেষ সেবা বুথ স্থাপনের কাজ চলছে। মেক্সিকোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বাধীন ওয়ার্ল্ড কাপ হেলথ অপারেশনস কমান্ডের সদস্য রক্সানা ত্রেখো জানিয়েছেন, দর্শনার্থীদের জন্য বিমানবন্দর ও আগমনকেন্দ্রগুলোতে বিশেষ পয়েন্ট তৈরি করা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শুধুমাত্র কনডম বিতরণ করলেই হবে না, বরং এর সঠিক ব্যবহার ও স্বাস্থ্য সচেতনতা সম্পর্কিত তথ্য দেওয়াটাও জরুরি। তথ্য ছাড়া কনডম বিতরণকে তিনি উপমা হিসেবে মিষ্টি পকেটে রাখার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

বিশ্বের যেকোনো বড় ক্রীড়া আসরগুলোতে জনস্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মসূচি নতুন কিছু নয়। তবে ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই টুর্নামেন্টে খেলোয়ারদের জন্য আলাদাভাবে কনডম বিতরণের কোনো পুরনো ঐতিহ্য নেই। এর প্রধান কারণ হলো অলিম্পিক গেমসের মতো বিশ্বকাপে সব খেলোয়াড় একটি কেন্দ্রীয় অ্যাথলেটস ভিলেজে থাকেন না। বিভিন্ন দেশের ফুটবলাররা আলাদা আলাদা হোটেল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অবস্থান করেন। তবে অলিম্পিক গেমসে কনডম বিতরণ বহু বছরের একটি প্রচলিত রীতি। সর্বশেষ প্যারিস ২০২৪ অলিম্পিকে প্রায় ৩ লাখ কনডম বিতরণ করা হয়েছিল, যা ১৯৮৮ সালের সিউল অলিম্পিক থেকে চলে আসা একটি ধারাবাহিক স্বাস্থ্য উদ্যোগ।

বিশ্বকাপের বিশাল জনসমাগমের মধ্যে জনস্বাস্থ্য ঠিক রাখা আয়োজকদের জন্য সবসময়ই একটি চ্যালেঞ্জ। মেক্সিকো কর্তৃপক্ষ তাদের এই কর্মসূচির মাধ্যমে দর্শকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। খেলাধুলার পাশাপাশি দর্শকদের সুস্থ ও নিরাপদ রাখার এই প্রয়াস বিশ্বমঞ্চে এক নতুন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে পারে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই সচেতনতামূলক কার্যক্রমের ফলে টুর্নামেন্ট চলাকালীন স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে এবং দর্শকদের কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছে যাবে।

banner
Link copied!