বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিশ্বকাপের নতুন দিগন্ত: ১৬ স্টেডিয়ামের আদ্যোপান্ত

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ১১, ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম

বিশ্বকাপের নতুন দিগন্ত: ১৬ স্টেডিয়ামের আদ্যোপান্ত

ছবি : সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে ২০২৬ সালের আসরটি হবে এক অনন্য মাইলফলক। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ২৩তম আসরে খেলা হবে মোট ১০৪টি ম্যাচ। উত্তর আমেরিকার তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে এই টুর্নামেন্টকে সফল করতে নির্বাচন করা হয়েছে ১৬টি বিশ্বমানের স্টেডিয়াম। বোস্টনের শীতল বাতাস থেকে শুরু করে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত এই ভেন্যুগুলো কেবল খেলার মাঠ নয়, বরং স্থাপত্য ও প্রযুক্তির এক অনন্য প্রদর্শনী।

মেক্সিকো সিটি তার ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা নিয়ে এবারের আয়োজনের সবচেয়ে বড় গর্বের জায়গা দখল করে আছে। এটি বিশ্বের প্রথম ভেন্যু যা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ আয়োজনের বিরল সম্মান অর্জন করেছে। পেলে ও ম্যারাডোনার মতো কিংবদন্তিদের স্মৃতি বিজড়িত এই ৮৩ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার মাঠটি ১১ জুন মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্টের সূচনা করবে। এছাড়া মেক্সিকোর গুয়াদালাহারার গোলাকার এস্তাদিও আকরন এবং মন্টেরের অত্যাধুনিক এস্তাদিও মন্টেরে এই আসরে মেক্সিকান ফুটবল ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভেন্যুগুলো আধুনিক প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের পরিচয় বহন করছে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম হবে এবারের ফাইনালের মঞ্চ, যেখানে ৮২ হাজার ৫০০ দর্শক ১৯ জুলাই নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দেখার অপেক্ষায় থাকবে। ডলাস স্টেডিয়াম টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বিশাল ক্ষেত্র, যার ৯৪ হাজার ধারণক্ষমতা ফুটবল উন্মাদনার নতুন মাত্রা যোগ করবে। আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম তার রিট্র্যাক্টেবল ছাদ ও ৩৬০-ডিগ্রি ডিসপ্লের মাধ্যমে দর্শক অভিজ্ঞতাকে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামটি এই ১৬টি ভেন্যুর মধ্যে সবচেয়ে নতুন ও আধুনিক, যা ২০২৮ অলিম্পিকেরও প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।

কানাডার ফুটবল ইতিহাসের পাতায় প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ আয়োজক হওয়ার গৌরব যুক্ত হচ্ছে টরন্টো ও ভ্যাঙ্কুভারের হাত ধরে। টরন্টো স্টেডিয়ামটি তার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ স্টাইলের স্থাপত্যের জন্য পরিচিত, যা কানাডার ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক নতুন দিগন্ত। অন্যদিকে, ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়াম, যেখানে ২০১৫ নারী বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তা এবার তার আইকনিক ছাদ ও বিশাল ধারণক্ষমতার মাধ্যমে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর সাক্ষী হতে যাচ্ছে। এই দুই ভেন্যু উত্তর আমেরিকায় ফুটবলের প্রসার ও জনপ্রিয়তাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করবে।

সিয়াটলের লুমেন ফিল্ড তার স্কাইলাইন ভিউ এবং ঘোড়ার খুরের আকৃতির কাঠামোর জন্য এক অসাধারণ দৃশ্যপটের জন্ম দেবে। ফিলাডেলফিয়ার লিঙ্কন ফাইনান্সিয়াল ফিল্ড কিংবা সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ার লেভি’স স্টেডিয়ামের মতো ভেন্যুগুলো তাদের অত্যাধুনিক নকশার মাধ্যমে টুর্নামেন্টটিকে প্রযুক্তিগতভাবে সমৃদ্ধ করবে। কানসাস সিটির অ্যারোহেড ফিল্ড, যা তার প্রচণ্ড শব্দের তীব্রতার জন্য গিনেস বুকে জায়গা পেয়েছে, সেখানে আর্জেন্টিনার মতো বড় দলগুলোর খেলা হবে যা পরিবেশকে করবে আরও উত্তপ্ত। সব মিলিয়ে এই ১৬টি স্টেডিয়াম কেবল খেলার জায়গা নয়, বরং ফুটবলের বৈশ্বিক রূপান্তরের জীবন্ত সাক্ষী হিসেবে ইতিহাসে টিকে থাকবে।

banner
Link copied!