সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩

মেক্সিকোর বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জয়, ইতিহাসের পাতায়

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ৬, ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম

মেক্সিকোর বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জয়, ইতিহাসের পাতায়

মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে যেন রূপকথার জন্ম দিয়েছে ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে পরাজিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লিখিয়েছে থ্রি লায়ন্স। মেক্সিকোর ঘরের মাঠের দর্শক সমর্থন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উঁচুতে অবস্থিত এই স্টেডিয়ামের বিরূপ আবহাওয়া কাটিয়ে ইংল্যান্ডের এই জয়কে তাদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ম্যাচটি ছিল চরম নাটকীয়তায় ভরপুর। ইংল্যান্ডের হয়ে জোড়া গোল করেছেন জ্যুড বেলিংহাম। অন্য গোলটি এসেছে হ্যারি কেনের পেনাল্টি থেকে। তবে ম্যাচের ৫৪ মিনিটে জ্যারেল কোয়ানসাহ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ইংল্যান্ডকে বাকি সময় ১০ জন খেলোয়াড় নিয়ে লড়তে হয়। একজন খেলোয়াড় কম থাকার পরেও ইংল্যান্ড যেভাবে দৃঢ়তা দেখিয়েছে, তা ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘদিন মনে থাকবে।

আজতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকো সচরাচর হারে না। এই ম্যাচের আগে গত কয়েক বছরে এখানে মেক্সিকোর হার ছিল একেবারেই বিরল ঘটনা। তাছাড়া এই বিশ্বকাপে মেক্সিকো তাদের আগের চার ম্যাচে কোনো গোল হজম করেনি এবং চারটি ম্যাচেই জয় পেয়েছিল। সেই অপরাজেয় মেক্সিকোকে তাদের ঘরের মাঠে হারানো ইংল্যান্ডের জন্য একটি বিশাল অর্জন। ১৯৫৪ সালে সুইজারল্যান্ডের পর এই প্রথমবার ইংল্যান্ড কোনো বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশকে তাদের মাঠে পরাজিত করল।

ইংল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাসে এর আগেও বেশ কিছু স্মরণীয় জয় রয়েছে। ২০০১ সালে জার্মানির মিউনিখে ৫-১ গোলের জয় কিংবা ২০১৮ সালে সেভিয়ায় স্পেনের বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয় এখনো ভক্তদের মনে গেঁথে আছে। তবে এবারের বিশ্বকাপে প্রতিকূল পরিবেশ এবং ১০ জন খেলোয়াড় নিয়ে লড়াই করার যে মানসিকতা ইংল্যান্ড দেখিয়েছে, তা দলটির চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে জোরালো করেছে।

কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে এই জয় ইংল্যান্ডের আত্মবিশ্বাস কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। গোলরক্ষক এবং রক্ষণভাগের দৃঢ়তার পাশাপাশি মধ্যমাঠের সৃজনশীলতা কোচ টমাস টুখেলের দলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এখন দেখার পালা, এই জয়ের ছন্দ তারা পরবর্তী রাউন্ডগুলোতে ধরে রাখতে পারে কি না। মেক্সিকোর বিদায় নিশ্চিত হলেও ইংল্যান্ডের জয়যাত্রায় আজতেকার রাতটি ইতিহাস হয়ে থাকবে।

banner
Link copied!