সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩

মেক্সিকোর বিশ্বকাপ যাত্রা: ভয় ও শঙ্কার মাঝে এক টুকরো আনন্দ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ৬, ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম

মেক্সিকোর বিশ্বকাপ যাত্রা: ভয় ও শঙ্কার মাঝে এক টুকরো আনন্দ

আজতেকা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের কাছে তিন দুই গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে মেক্সিকো। তবে এই পরাজয়ের গ্লানি ছাপিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা আনা শহরের এক ছোট বিস্ট্রোতে মেক্সিকান বংশোদ্ভূত নাগরিকদের চোখেমুখে দেখা গেছে অন্য এক আবেগ। পরাজয়ের দুঃখ থাকলেও তাদের কণ্ঠে ছিল গান, ছিল নিজেদের দলের প্রতি অটুট সমর্থন। ক্যালিফোর্নিয়ার প্রবাসী মেক্সিকানদের জন্য এই বিশ্বকাপ কেবল ফুটবলের লড়াই ছিল না, এটি ছিল একাত্মতা ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প।

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা আনা শহরে বসবাসরত লুই লেইলা নামের একজন মেক্সিকান-আমেরিকান জানান, হারটি কষ্টের হলেও তাদের মানুষের পাশে তারা থাকবেনই। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পরাজয় মেক্সিকোর ফুটবল যাত্রার সমাপ্তি ঘটালেও এই টুর্নামেন্ট তাদের কমিউনিটির জন্য এক বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখানে মেক্সিকোর প্রতিটি ম্যাচ ছিল তাদের নিজেদের অস্তিত্ব ও পরিচয়ের উদযাপন।

বিশ্বকাপের এই আসরটি যেন সাধারণ ফুটবলের সীমানা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের কলামিস্ট গুস্তাভো আরিয়ানো বলেন, মাত্র এক বছর আগের পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সে সময় ল্যাটিনো এলাকাগুলোতে অভিবাসন বিরোধী অভিযানের ভয়ে মানুষ ঘরের বাইরে বের হতেও ভয় পেত। রাস্তাঘাট ছিল জনশূন্য। অথচ মাত্র এক বছর পর সেই একই রাস্তাগুলো এখন মেক্সিকোর পতাকা, বাদ্যযন্ত্র এবং সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মুখরিত।

গত বছর যখন অভিবাসন অভিযানের কারণে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল, সেই ভয়াবহ সময়ের তুলনায় বর্তমান দৃশ্যপট অনেক বেশি উজ্জ্বল। গুস্তাভো আরিয়ানো বলেন, এই উৎসব কেবল মেক্সিকানদের জন্য নয়, বরং সব ল্যাটিনোদের জন্য এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি বা ক্যাথারসিস। ভয়ের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া, গায়ে সবুজ জার্সি জড়িয়ে প্রকাশ্য জনসমাগমে অংশ নেওয়া অভিবাসীদের মনে এক নতুন আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে।

আমেরিকার আড়াইশতম বার্ষিকী উদযাপনের এই সময়ে অভিবাসী কমিউনিটিগুলো কেবল মেক্সিকোর নয়, বরং আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া, মরক্কো ও মিশরের মতো দেশের পক্ষেও রাজপথে নেমেছিল। এটি এমন এক আমেরিকার চিত্র তুলে ধরে, যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ একাধিক দেশের সাথে তাদের সাংস্কৃতিক বন্ধন বজায় রেখেও আমেরিকান পরিচয়ে গর্বিত। মেক্সিকান-আমেরিকানদের কাছে এই বিশ্বকাপটি হয়ে উঠেছিল তাদের দুটি প্রিয় আবাসভূমিকে উদযাপনের মাধ্যম।

ফুটবলকে অনেক সময় জীবনের প্রতিচ্ছবি বলা হয়, যেখানে হার-জিত স্বাভাবিক। তবে এই বিশ্বকাপে মেক্সিকান সমর্থকরা যা দেখিয়েছেন, তা হলো ভয়ের ওপর জয়লাভের অদম্য মানসিকতা। ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে মাঠের লড়াইয়ে হেরে গেলেও, মাঠের বাইরে এই ফুটবল টুর্নামেন্ট তাদের দিয়েছে দীর্ঘদিনের লালিত আনন্দ ও সংহতি প্রকাশের বিরল এক সুযোগ। তারা আজতেকার সেই পরাজয়কে কেবল একটি ফুটবল ম্যাচের ফল হিসেবেই দেখছেন না, বরং একে দেখছেন নিজেদের পরিচয়ের এক নতুন উত্থান হিসেবে।

banner
Link copied!