পর্তুগালের ফুটবল কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অবস্থান করছেন। সোমবার রাতে শেষ ষোলোর ম্যাচে স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামবে পর্তুগাল। তবে ম্যাচটি শুরুর আগে থেকেই ফুটবল বিশ্বে প্রশ্ন উঠেছে, ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা কি দলের শুরুর একাদশে থাকার যোগ্য?
ম্যাচের আগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রোনালদো সরাসরি জানিয়েছেন যে তিনি মাঠ ছাড়ার সময় নিজেই নির্ধারণ করবেন। গত ২৩ বছর ধরে চলা সমালোচনার জবাব দিয়ে তিনি বলেছেন, এসব সমালোচনা তাকে আরও শক্তিশালী করেছে। এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তিনি তিনটি গোল করেছেন, তবে তার সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। অনেকের মতে, রোনালদোর বর্তমান গতি এবং দলের খেলার ধরনের সঙ্গে তার সমন্বয় আগের মতো নেই।
পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ অবশ্য রোনালদোর ওপরই আস্থা রেখেছেন। তিনি মনে করেন, মাঠের শেষ ভাগে রোনালদোর দক্ষতা এবং তার নেতৃত্ব এখনো বিশ্বের অন্যতম সেরা। মার্তিনেজের অধীনে পর্তুগাল বেশ কিছু বড় জয় পেয়েছে, যার মধ্যে রোনালদোর অনুপস্থিতিতে পাওয়া জয়গুলোও রয়েছে। যেমন, ২০২৩ সালে লুক্সেমবার্গের বিপক্ষে ৯-০ এবং আর্মেনিয়ার বিপক্ষে ৯-১ গোলের বড় জয়গুলো ছিল রোনালদোবিহীন পর্তুগালের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স। এই পরিসংখ্যানই মূলত দলের তরুণদের ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি দিচ্ছে।
রোনালদোর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে দেখা যায়, ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া এই খেলোয়াড় প্রতিটি আসরেই গোল পেয়েছেন। তবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তার গোল খরা বেশ দীর্ঘ ছিল, যা ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করার পর কিছুটা কেটেছে। তার ভক্তদের কাছে তিনি এখনো অনুপ্রেরণার উৎস, যারা পর্তুগালকে স্বপ্ন দেখানো এই খেলোয়াড়কে শেষবার মাঠে রাজকীয়ভাবে দেখতে চান।
স্পেনের বিপক্ষে এই ম্যাচে পর্তুগালের কৌশল কী হবে, তা নিয়ে কোচ রবার্তো মার্তিনেজ এখনো মুখ খোলেননি। গোলকিপার এবং ডিফেন্ডারদের নিয়ে গড়া দলের ভারসাম্যের পাশাপাশি আক্রমণভাগে গঞ্জালো রামোসের মতো তরুণ খেলোয়াড়দের নামিয়ে নতুন কোনো চমক দেখা যায় কি না, তা নিয়েও জল্পনা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত রোনালদো কি তার শেষ বিশ্বকাপে শুরুর একাদশে থেকে দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে পারবেন, নাকি তাকে সুপার সাব হিসেবে দেখা যাবে—সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
