ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি ফক্স নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্ক অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং বন্ধুত্বপূর্ণ। ইরান ইস্যুতে যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযান নিয়ে যে মতপার্থক্য তৈরি হওয়ার খবর শোনা যাচ্ছিল, তা মূলত ভুল বোঝাবুঝি বলে মন্তব্য করেন তিনি। নেতানিয়াহু জোর দিয়ে বলেন যে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে কোনো বড় ধরনের ফাটল নেই এবং তারা যে কোনো সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে সক্ষম।
সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষায় দেশটির ভূমিকা অপরিসীম বলে উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া পৃথিবীতে স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। ট্রাম্পের সঙ্গে তার চিন্তাধারার অনেক মিল রয়েছে এবং তারা প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একমত পোষণ করেন বলে তিনি জানান। তবে এই বক্তব্যের বিপরীত দিকও রয়েছে। ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের বিরোধিতা করছেন। এই চুক্তিতে আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়েছে, যার মধ্যে লেবানন পরিস্থিতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং দেশটির দাবি অনুযায়ী তারা যে কোনো সময় যেকোনো হুমকি মোকাবিলার অধিকার রাখে। সম্প্রতি দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় একজন শিক্ষকসহ অন্তত চারজন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ফক্স নিউজের সঙ্গে কথোপকথনে নেতানিয়াহু জানান যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ছোটখাটো মতপার্থক্য থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তিনি তাদের সম্পর্ককে আদর্শ মিত্র হিসেবে অভিহিত করেন এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর ভিত্তি করে তা পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করেন।
নেতানিয়াহু আরও জানান যে তিনি শিগগির যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন, যদিও তার সফরের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। এছাড়া তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়েও তিনি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি মনে করেন তুরস্কের মতো দেশের হাতে এই প্রযুক্তি তুলে দেওয়া ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সামগ্রিকভাবে এই সাক্ষাৎকারটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। একদিকে যুদ্ধবিরতির আলোচনা এবং অন্যদিকে সামরিক অভিযানের তীব্রতা—সব মিলিয়ে নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য কূটনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনগুলোতে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে এই কৌশলগত সম্পর্কের রূপরেখা কেমন হয়।
