পর্তুগালকে এক শূন্য গোলে পরাজিত করে ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। ডলাসে অনুষ্ঠিত এই নকআউট ম্যাচে মিকেল মেরিনোর শেষ মুহূর্তের গোলটি স্পেনের জয় নিশ্চিত করে। এই জয়ের মাধ্যমে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা টুর্নামেন্টের শেষ আটে তাদের জায়গা পাকাপোক্ত করেছে এবং আগামী শুক্রবার বেলজিয়ামের বিপক্ষে তারা পরবর্তী লড়াইয়ে নামবে।
স্পেনের এই জয়ের পেছনে মূল কারিগর হিসেবে কাজ করেছে তাদের জমাট রক্ষণভাগ। এবারের বিশ্বকাপে তারা এখন পর্যন্ত একটি গোলও হজম করেনি। টানা ছয়টি ম্যাচে প্রতিপক্ষকে গোলবঞ্চিত রেখে তারা বিশ্ব ফুটবলে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এর আগে ইতালি এবং সুইজারল্যান্ড পর্যায়ক্রমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা পাঁচ ম্যাচে গোল না খাওয়ার রেকর্ড গড়েছিল। স্পেন সেই রেকর্ড ভেঙে এখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিশ্বকাপের মূল আসরে টানা দশ ঘণ্টা নয় মিনিট কোনো গোল না খেয়ে তারা এই অনন্য সাফল্য ধরে রেখেছে।
দলের গোলরক্ষক উনাই সিমন ব্যক্তিগতভাবেও এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। তিনি এখন বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা ছয়শ নয় মিনিট গোল না খাওয়ার রেকর্ডের অধিকারী। তিনি ইতালির ওয়াল্টার জেনগা এবং স্বদেশি আইকার ক্যাসিয়াসের মতো কিংবদন্তিদের রেকর্ড পেছনে ফেলেছেন। সিমনসহ স্পেনের পুরো রক্ষণভাগের এই দৃঢ়তা প্রতিযোগিতার অন্য দলগুলোর জন্য এক বড় সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে জয়ের পর তার দলের খেলোয়াড়দের এই সাফল্যকে সম্মিলিত কাজের ফসল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে দলের প্রতিটি খেলোয়াড় একে অপরের জন্য দৌড়াচ্ছে এবং মাঠে আত্মত্যাগ করতে প্রস্তুত। আয়মেরিক লাপোর্তে এবং পাউ কুবর্সির জুটি রক্ষণভাগের কেন্দ্রে দারুণ ভারসাম্য বজায় রাখছে। একই সঙ্গে ফুলব্যাক হিসেবে পেদ্রো পোরো এবং মার্ক কুকুরেয়া দলের রক্ষণ এবং আক্রমণ উভয় ক্ষেত্রেই অবদান রাখছেন।
রড্রি মাঝমাঠে দলের হাল ধরে রাখছেন এবং তাকে স্পেনের খেলার বাতিঘর হিসেবে অভিহিত করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। তাদের এই সমন্বিত পারফরম্যান্সের কারণে প্রতিপক্ষ দলগুলো স্পেনের গোলবার ভেদ করতে হিমশিম খাচ্ছে। ২০১০ সালের বিশ্বকাপ বিজয়ী দলটির মতো এবারও স্পেনের এই দলটি শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করছে। তবে পরবর্তী ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে জয়ী হওয়ার জন্য তাদের রক্ষণভাগের পাশাপাশি আক্রমণভাগকেও সমান কার্যকর হতে হবে। টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে কোনো ভুল করার অবকাশ নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
