সিয়াটল স্টেডিয়ামে বেলজিয়ামের কাছে চার এক গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে বিদায় নিয়েছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। নকআউট পর্বের এই ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগের চরম ব্যর্থতা এবং মাঠের বাইরের নাটকীয়তা ছিল দর্শকদের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পরাজয়।
ম্যাচটির আগে গত কয়েকদিন ফোলারিন ব্যালোগানের লাল কার্ড সংক্রান্ত বিতর্ক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে ছিল। আগের ম্যাচে লাল কার্ড দেখার পর ফিফা ব্যালোগানের ওপর থেকে স্বয়ংক্রিয় এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে তুলে নিয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যদিও কোচ মাউরোসিও পোচেত্তিনো ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে এই রাজনৈতিক বিতর্ক দলের পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব ফেলেনি। তবে মাঠের খেলায় যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড়দের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট ছিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই বেলজিয়াম আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে। নবম মিনিটে চার্লস ডি কেটেলারে বেলজিয়ামকে এগিয়ে নেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের মালিল টিলম্যান একটি গোল পরিশোধ করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিলেও বেলজিয়ামের শক্তিশালী আক্রমণভাগের সামনে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগ টিকতে পারেনি। তেত্রিশতম মিনিটে ডি কেটেলারে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিসের ভুলে বেলজিয়াম তৃতীয় গোলটি পেয়ে যায়। হান্স ভানাকেন ফাঁকা গোলপোস্ট থেকে বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান বাড়ান। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে রোমেলু লুকাকু গোল করে জয় নিশ্চিত করেন।
স্বাগতিক হিসেবে এবারের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দেশজুড়ে বিশাল প্রত্যাশা ছিল। দলটির খেলার ধরন এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়িয়েছিল। তবে বেলজিয়ামের কাছে এই পরাজয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের ভবিষ্যৎ এবং কোচ পোচেত্তিনোর টিকে থাকা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। পোচেত্তিনোর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ এই বিশ্বকাপ শেষেই শেষ হচ্ছে। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এখনো পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
পরাজয়ের পর মিডফিল্ডার টাইলার অ্যাডামস বলেছেন যে এই হার তাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার প্রতিফলন নয়। ফুটবলপ্রেমীরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের ভিত্তি তৈরির জন্য এটি একটি বড় শিক্ষা হতে পারে। যদিও স্বাগতিক হিসেবে তাদের বিদায়টা দ্রুত হয়েছে, তবে সারা দেশে যে ফুটবল উন্মাদনা তৈরি হয়েছে তা ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে। সিয়াটল স্টেডিয়ামে পরাজয়ের পর অনেক সমর্থকই জানিয়েছেন যে তাদের আরও অনেক পথ পাড়ি দেওয়ার বাকি রয়েছে। ফিফা এখন এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে। ইউয়েফা এবং অন্যান্য ফুটবল সংস্থা ফিফার এই হস্তক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে। সব মিলিয়ে এক উত্তাল সময়ের সমাপ্তি ঘটল যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল সমর্থকদের জন্য।
