মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

গোল হজম ও মেসির পেনাল্টি মিস: আটলান্টায় বিপদে আর্জেন্টিনা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ৭, ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম

গোল হজম ও মেসির পেনাল্টি মিস: আটলান্টায় বিপদে আর্জেন্টিনা

আটলান্টার স্টেডিয়ামে ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলোর এই ম্যাচটি এখন চরম উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। ১৫তম মিনিটে ইয়াসির ইব্রাহিমের করা গোলে মিশর ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। মারওয়ান আতিয়ার অ্যাসিস্ট থেকে আসা এই গোলটি আর্জেন্টিনাকে বড় ধরণের চাপে ফেলে দিয়েছে। নকআউট পর্বের এই ম্যাচে সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা, কিন্তু লিওনেল মেসি একটি পেনাল্টি মিস করায় সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই মিশর অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলছে। তারা শুরু থেকে হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলেছে এবং আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে কোনো ছাড় দেয়নি। খেলার ১৫তম মিনিটে গোল পাওয়ার পর মিশরের রক্ষণভাগ আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তাদের ডিফেন্ডাররা আর্জেন্টিনা তথা মেসির প্রতিটি আক্রমণ দারুণভাবে প্রতিহত করছেন। আর্জেন্টিনা গোল শোধ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠলেও এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি।

ম্যাচের সবচেয়ে বড় নাটকীয় ঘটনাটি ঘটেছে যখন আর্জেন্টিনা পেনাল্টি পাওয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু লিওনেল মেসি সেই পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন। মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর দারুণ ক্ষিপ্রতায় মেসির শটটি ঠেকিয়ে দিয়েছেন। এই পেনাল্টি মিসটি মেসির ক্যারিয়ারে এক নতুন তিক্ত অভিজ্ঞতার জন্ম দিয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে মেসি এখন পর্যন্ত আটটি পেনাল্টির মধ্যে চারটিই মিস করেছেন। এছাড়া বিশ্বকাপের একটি আসরে দুটি পেনাল্টি মিস করা প্রথম খেলোয়াড় হিসেবেও তিনি রেকর্ড গড়েছেন। এই পেনাল্টি মিসের পর মেসিকে বেশ হতাশ দেখাচ্ছিল, যদিও তার লড়াই করার মানসিকতা এখনো অটুট রয়েছে।

আটলান্টার এই স্টেডিয়ামে পরিবেশ এখন যেন বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আর্জেন্টিনার সমর্থকরা পেনাল্টি মিসের পর যেন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল, অন্যদিকে মিশরীয় সমর্থকদের গর্জনে স্টেডিয়াম মুখরিত হয়ে উঠছে। আর্জেন্টিনা তাদের হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে খেলছে। তাদের আক্রমণভাগে মেসি, জুলিয়ান আলভারেজ এবং লাউতারো মার্টিনেজরা ক্রমাগত চাপ তৈরি করছেন। কিন্তু মিশরের জমাট রক্ষণভাগের সামনে সবকিছুই ব্যর্থ হচ্ছে।

ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আর্জেন্টিনা যেভাবে চাপ তৈরি করছে, তাতে তারা খুব দ্রুত গোল শোধ করতে না পারলে ম্যাচটি তাদের হাত থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে যেতে পারে। মিশর এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা করছে। বিরতির আগে গোল শোধ করতে না পারলে দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনার জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। মেসি কি পারবেন তার জাদুকরী পারফরম্যান্স দিয়ে দলকে এই সংকটময় অবস্থা থেকে উদ্ধার করতে, নাকি মিশর এই ঐতিহাসিক জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করবে—সেই উত্তরের অপেক্ষায় সারা বিশ্ব। পরবর্তী আপডেটের জন্য চোখ রাখুন আমাদের লাইভ রিপোর্টিংয়ে।

banner
Link copied!