বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

গাজা নিয়ে জাতিসংঘের তদন্তের নেপথ্যে ভারতীয় বিচারক মুরলীধর

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ৮, ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম

গাজা নিয়ে জাতিসংঘের তদন্তের নেপথ্যে ভারতীয় বিচারক মুরলীধর

গাজায় ফিলিস্তিনি শিশুদের হত্যার ঘটনায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের সাম্প্রতিক তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভারতের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শ্রীনিবাসন মুরলীধর। গত জুন মাসে প্রকাশিত ৯৪ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে পরিকল্পিত এবং গণহত্যার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ছয় বছর আগে দিল্লির আদালত থেকে আকস্মিক বদলি হওয়া এই বিচারক এখন আন্তর্জাতিক পরিসরে সবচেয়ে সংবেদনশীল তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ ২০২১ সালের মে মাসে এই কমিশন গঠন করে। মূলত ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন সংঘাতের মূল কারণ এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্ত করাই ছিল এই কমিশনের মূল লক্ষ্য। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বিচারপতি মুরলীধর এই কমিশনে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি এই কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার নেতৃত্বাধীন তদন্তে উঠে এসেছে যে, গত দুই বছরের যুদ্ধে ইসরায়েল অন্তত বিশ হাজার একশ উনআশি জন ফিলিস্তিনি শিশুকে হত্যা করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় নিহত মোট ফিলিস্তিনির প্রায় ত্রিশ শতাংশই শিশু। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, মুরলীধর তার দীর্ঘ বিচারিক জীবনে বারবার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। ২০২০ সালে দিল্লিতে দাঙ্গার ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রচেষ্টার সময় মধ্যরাতে তাকে অন্য আদালতে বদলি করা হয়। ভারতের বিচারিক ব্যবস্থায় এটি তখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। ব্যক্তিগত জীবনে এবং পেশাগত জীবনে বহুবার চাপের মুখে পড়া এই বিচারক বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন।

তদন্ত প্রতিবেদনটি ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের সামরিক কর্মকাণ্ড এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সরাসরি হামলার বিষয়গুলোকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। কমিশন তাদের অনুসন্ধানে দেখেছে যে, গাজায় শিশুরা ইসরায়েলি বাহিনীর সরাসরি নিশানায় পরিণত হয়েছে। এটি কেবল যুদ্ধের উপজাত পণ্য নয়, বরং একটি পরিকল্পিত কৌশলের অংশ। জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, এই কমিশন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের যাবতীয় প্রমাণ সংগ্রহ করে এবং ভবিষ্যতে বিচারের পথ প্রশস্ত করার জন্য কাজ করে।

বিচারপতি মুরলীধরের মতো ব্যক্তিত্বের অন্তর্ভুক্তি এই তদন্তকে একটি নতুন মাত্রা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মীরা মনে করছেন, ভারতের মতো দেশের একজন জ্যেষ্ঠ বিচারকের এই নিরপেক্ষ ভূমিকা ইসরায়েলের ওপর কূটনৈতিক ও আইনি চাপ বাড়াতে সাহায্য করবে। জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের এই কমিশন নিয়মিতভাবে তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে, যা গাজার চলমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরছে। এই তদন্তের ফলাফল ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক আদালতে ইসরায়েলের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

banner
Link copied!