ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনাপূর্ণ নকআউট পর্ব শেষে এখন সবার নজর কোয়ার্টার ফাইনালের দিকে। এবারের আসরে অংশ নেওয়া দেশগুলোর পারফরম্যান্স ফুটবলপ্রেমীদের মনে নতুন করে রোমাঞ্চ তৈরি করেছে। ইউরোপের ছয়টি দেশের পাশাপাশি আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার একটি করে দেশ শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই চারটি ম্যাচ নির্ধারণ করবে সেমিফাইনালের পথ।
বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই হতে যাচ্ছে ফ্রান্স এবং মরক্কোর মধ্যে। চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল দল দুটি। এবার যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা স্টেডিয়ামে মরক্কো মাঠে নামবে ফ্রান্সের বিপক্ষে। মরক্কোর বর্তমান দলটি আগের চেয়ে অনেক বেশি গতিময় এবং আত্মবিশ্বাসী। অন্যদিকে ফ্রান্সের দলে উইলিয়াম সালিবা এবং মাইকেল অলিসের মতো তরুণদের উত্থান দলকে নতুন রূপ দিয়েছে। কিলিয়ান এমবাপে গোল্ডেন বুট জয়ের পাশাপাশি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় নিজের অবস্থান শক্ত করার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে স্পেন। বেলজিয়াম এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তেরোটি গোল করেছে, যা তাদের আক্রমণভাগের শক্তির প্রমাণ। রোমেলু লুকাকু বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে নিয়মিত গোল করে চলেছেন। তবে স্পেনের রক্ষণভাগ এবারের বিশ্বকাপে অসাধারণ খেলেছে। টানা ছয় ম্যাচে কোনো গোল হজম না করা স্পেনের জন্য বেলজিয়ামের আক্রমণ সামলানো বড় চ্যালেঞ্জ হবে। লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন তাদের প্রতিটি নকআউট ম্যাচেই সফল হয়েছে।
বিশ্বকাপের শেষ আটে হ্যারি কেন এবং আর্লিং হালান্ডের ব্যক্তিগত লড়াই দেখার অপেক্ষায় ফুটবলবিশ্ব। নরওয়ে এবং ইংল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচে গোল মেশিন হালান্ড এবং অভিজ্ঞ কেনের লড়াইটি কোয়ার্টার ফাইনালের বড় আকর্ষণ। নরওয়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হারিয়ে শেষ আটে পৌঁছেছে, যেখানে হালান্ড জোড়া গোল করেছিলেন। অন্যদিকে ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
এবারের আসরে ছোট বা বড় দল হিসেবে কাউকে দেখার সুযোগ নেই, কারণ প্রতিটি দেশই তাদের সেরাটা দিয়ে লড়াই করছে। কোয়ার্টার ফাইনালের চারটি ম্যাচই দর্শকদের জন্য বড় উপহার হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে নরওয়ের মতো দলের প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় ঘটনা। সব মিলিয়ে শিরোপার লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং প্রতিটি ম্যাচই এখন উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
