বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

আরব সাগরে নিখোঁজ পাকিস্তানের কার্গো বিমান

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ৮, ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম

আরব সাগরে নিখোঁজ পাকিস্তানের কার্গো বিমান

আরব সাগরে পাকিস্তানের একটি কার্গো বিমান নিখোঁজ হয়েছে। বিমানটিতে পাঁচজন ক্রু সদস্য ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে করাচি যাওয়ার পথে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পাকিস্তান এয়ারপোর্টস অথরিটির তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার রাত নয়টা আঠারো মিনিটের দিকে পাইলট নেভিগেশনাল ত্রুটির কথা জানানোর পরপরই বিমানটির সঙ্গে রাডার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং সার্ভিস ফ্লাইটরাডার-টুয়েন্টিফোরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিমানটি আকস্মিকভাবে প্রায় পাঁচ হাজার ফুট উচ্চতা হারিয়েছিল। এরপর কিছু সময়ের জন্য বিমানটি আবার প্রায় ছয় হাজার ফুট ওপরে উঠে যায়। সবশেষে প্রায় ছত্রিশ হাজার পাঁচশ পঞ্চাশ ফুট উচ্চতা থেকে বিমানটি উল্লম্বভাবে নিচে নেমে আসে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সর্বশেষ সংকেত অনুযায়ী, বিমানটি করাচি থেকে প্রায় দুইশ সাতাশি কিলোমিটার পশ্চিমে ছিল।

নিখোঁজ বিমানটির সন্ধানে পাকিস্তান নৌবাহিনী এবং ন্যাশনাল শিপিং কর্পোরেশনের জাহাজগুলো উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে। পাশাপাশি দুটি নৌ-বিমানও তল্লাশি অভিযানে অংশ নিয়েছে। বুধবার সকাল পর্যন্ত কোনো ধ্বংসাবশেষ বা জীবিত কাউকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। কে২ এয়ারওয়েজ নামক বেসরকারি কার্গো এয়ারলাইন্সের এই বিমানটি ছিল তাদের বহরের একমাত্র বিমান। এই ঘটনার পর এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ তাদের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং উদ্ধার অভিযানে পুরোপুরি সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে।

বিমানটি সম্পর্কে জানা যায় যে, এটি সাতাশ বছরের পুরোনো একটি বোয়িং সেভেন থ্রি সেভেন-ফোর হান্ড্রেড মডেলের উড়োজাহাজ। ১৯৯৯ সালে এটি প্রথম অ্যারোফ্লটের কাছে যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে সরবরাহ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে এটি ইন্দোনেশিয়া ও বেলজিয়ামের বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের হয়ে কাজ করেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি কে২ এয়ারওয়েজে যুক্ত হয়। দীর্ঘ সময় বিভিন্ন স্থানে পার্ক করে রাখা এই বিমানটির কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিখোঁজ ক্রু সদস্যদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ২০২০ সালের পর এটি পাকিস্তানের বড় কোনো বেসামরিক বিমান বিপর্যয় হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর আগে করাচিতে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে সাতানব্বই জন নিহত হয়েছিল। এবারের উদ্ধার অভিযান এখন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে চলছে এবং পুরো দেশ এখন নিখোঁজ ক্রু সদস্যদের ভাগ্যের দিকে তাকিয়ে আছে।

banner
Link copied!