বিশ্বের রাসায়নিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা সংস্থা সিরিয়ার ভোটাধিকার পুনর্বহাল করেছে। গত কয়েক বছরে দেশটিতে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে তার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার নতুন নেতৃত্ব রাসায়নিক অস্ত্র সংক্রান্ত দায়বদ্ধতা পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, ২০২১ সালে স্থগিত করা ভোটাধিকার এখন থেকে কার্যকর হবে। এর আগে বাশার আল-আসাদ সরকারের ব্যর্থতার কারণে সিরিয়ার ভোটাধিকার স্থগিত করা হয়েছিল।
সংস্থাটির মহাপরিচালক ফার্নান্দো আরিয়াস জানিয়েছেন, টেকনিক্যাল সেক্রেটারিয়েট এবং সিরিয়ার বর্তমান প্রশাসনের মধ্যকার গঠনমূলক আলোচনার ফলে এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এবং তার সরকার রাসায়নিক অস্ত্র সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি পালনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারা পরিদর্শক দলকে তথ্য যাচাই ও রাসায়নিক অস্ত্রের অবশিষ্টাংশ ধ্বংসের কাজে সহযোগিতা করছে। এই পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক মহলে সিরিয়ার প্রতি নতুন করে আস্থা তৈরির সুযোগ করে দিয়েছে।
২০১৩ সালে সিরিয়া যখন এই সংস্থায় যোগ দেয়, তখন তারা রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংসের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। তবে তৎকালীন সরকার সব তথ্য প্রকাশ না করায় এবং বারবার রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ ওঠায় তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের উপকণ্ঠে ঘৌতায় রাসায়নিক হামলার পর সারা বিশ্বে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে। সেই ঘটনার পর থেকেই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তৎকালীন সরকার অভিযোগ অস্বীকার করলেও আন্তর্জাতিক তদন্তে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছিল।
সিরিয়ার নতুন প্রশাসন এখন পুরনো ভুল থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। তারা আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের অবাধ প্রবেশের সুযোগ দিচ্ছে এবং রাসায়নিক অস্ত্র সংক্রান্ত পুরনো নথি ও স্থাপনাগুলোর তথ্য প্রকাশ করছে। এই সহযোগিতা সংস্থাটির কর্মকর্তাদের সন্তুষ্ট করেছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের অবিশ্বাসের জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে সিরিয়াকে আরও পথ পাড়ি দিতে হবে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সিরিয়ার এই ভোটাধিকার পুনর্বহাল একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এটি কেবল রাসায়নিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ নয়, বরং সিরিয়ার নতুন সরকারের কূটনৈতিক সক্ষমতারও একটি পরীক্ষা। সংস্থাটির সদস্য রাষ্ট্রগুলো সিরিয়ার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এবং আশা প্রকাশ করেছে যে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার জন্য এই প্রক্রিয়াটি এখনো বেশ চ্যালেঞ্জিং। একদিকে দেশের অবকাঠামোর পুনর্গঠন এবং অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পূরণ—এই দুইয়ের সমন্বয় সাধন করাই এখন নতুন প্রশাসনের সামনে মূল কাজ।
