বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই, ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

ইরানের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধে অংশ নেবে না ইতালি: মেলোনি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ৯, ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম

ইরানের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধে অংশ নেবে না ইতালি: মেলোনি

ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা এবং ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক অভিযানে ইতালি অংশ নেবে না বলে অত্যন্ত স্পষ্ট ও কঠোরভাবে জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের এই দৃঢ় এবং অপরিবর্তিত অবস্থান পুনরায় পুনর্ব্যক্ত করেন। ভূ-রাজনৈতিক এই সংকটের সময়ে ইতালির এই সিদ্ধান্ত ইউরোপের নিরাপত্তা নীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

মেলোনি তার বক্তব্যে বলেন যে ইরানের বিষয়ে ইতালির নীতি অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং এটি শুরু থেকেই একই রকম রয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে তেহরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক হামলায় তার দেশ কোনোভাবেই সম্পৃক্ত হবে না। কোনো আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে অংশ না নিলেও ইতালি তার মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত ইতালীয় সেনা এবং নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতা প্রদানের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এড়িয়ে চলার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়ে আসছে মেলোনি সরকার। ইতালির লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক যুদ্ধ রোধ করা এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমিত করা। সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার টেবিলে সমাধানের পথ খুঁজে বের করাকে তারা দীর্ঘমেয়াদী শান্তির জন্য জরুরি বলে মনে করছে। ইতালির এই অবস্থানের কারণে অতীতেও মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।

এর আগে গত মার্চ মাসে ইরান উত্তেজনা চলাকালীন সময়ে মার্কিন যুদ্ধবিমানকে ইতালির সিগোনেলা বিমানঘাঁটিতে অবতরণের অনুমতি দেয়নি ইতালীয় কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনাটি মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মেলোনি সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। এরপরও ইতালি তাদের অবস্থানে অটল থেকেছে এবং নিজেদের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান যুদ্ধের সূচনা থেকেই ইউরোপীয় এবং ন্যাটো মিত্র দেশগুলোর সহায়তা প্রত্যাশা করে আসছেন মার্কিন নীতিনির্ধারকরা। তবে ইতালির মতো জার্মানি, স্পেন এবং সুইজারল্যান্ডের মতো বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় রাষ্ট্রও ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা এড়িয়ে চলেছে। এই দেশগুলো মূলত কূটনৈতিক সমাধানের পথ বেছে নিয়েছে এবং যেকোনো ধরনের সামরিক উস্কানি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তার ভারসাম্য বজায় রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত এড়ানোই এখন ইতালির পররাষ্ট্রনীতির প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মেলোনির এই ঘোষণা ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোর ওপরও নতুন করে প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। ভবিষ্যতে ন্যাটো জোটের পক্ষ থেকে কোনো নতুন সামরিক প্রস্তাব আসলে ইতালি তার অবস্থানে কতটা অটল থাকতে পারবে তা এখন দেখার বিষয়। আপাতত মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যে সামরিক সম্পৃক্ততা না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে ইতালি নিজেদের সতর্ক অবস্থান বজায় রাখল।

banner
Link copied!