বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই, ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল কি সর্বকালের সেরা? পরিসংখ্যানে উত্তেজনার ঢেউ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ৯, ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম

২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল কি সর্বকালের সেরা? পরিসংখ্যানে উত্তেজনার ঢেউ

ছবি : সংগৃহীত

কানাডা, মেক্সিকো এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আয়োজনে চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল আসরটি এ পর্যন্ত রেকর্ড ভাঙার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে। ৪৮টি দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আয়োজন হিসেবে স্বীকৃত। টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল যখন দোরগোড়ায়, তখন পরিসংখ্যান এবং মাঠের খেলা বিশ্লেষণ করে ফুটবলপ্রেমীদের মনে একটাই প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে, এটি কি সর্বকালের সেরা বিশ্বকাপ? ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ থাকলেও পরিসংখ্যানে এই বিশ্বকাপ অনেক এগিয়ে আছে।

টুর্নামেন্টের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৯৬টি ম্যাচে ২৮০টি গোল হয়েছে। প্রতি ম্যাচে গড়ে গোল সংখ্যা ২ দশমিক ৯২, যা ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের পর সর্বোচ্চ। সেবার ৩২টি ম্যাচে ৯৫টি গোল হয়েছিল, যার গড় ছিল প্রতি ম্যাচে ২ দশমিক ৯৭। সাম্প্রতিক সময়ের কাতার, রাশিয়া কিংবা ব্রাজিলের বিশ্বকাপের চেয়ে এবারের আসরের গোল করার হার বেশ চিত্তাকর্ষক। গোল হওয়ার ধরণও আক্রমণাত্মক ফুটবলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মোট গোলের ৭৪ দশমিক ৬ শতাংশই এসেছে ওপেন প্লে থেকে, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ। অন্যদিকে পেনাল্টি থেকে গোল হওয়ার হার মাত্র ৫ শতাংশ, যা রেকর্ড অনুযায়ী সর্বনিম্ন।

টুর্নামেন্টের রোমাঞ্চকর মুহূর্তগুলো দর্শকদের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলছে। নকআউট পর্বের ২৪টি ম্যাচের মধ্যে ৮টিতেই ৮৫তম মিনিটের পর জয়সূচক গোল হয়েছে। টুর্নামেন্টে ইতিমধ্যে ৯০তম মিনিটে জয়সূচক গোল হওয়ার ঘটনা ১০ বার ঘটেছে, যা একটি নতুন রেকর্ড। আর্জেন্টিনার সাথে কেপ ভার্দের ম্যাচ কিংবা ইংল্যান্ড ও মেক্সিকোর মধ্যকার লড়াইয়ে দেখা গেছে অবিশ্বাস্য সব নাটকীয়তা। ইংল্যান্ডের ম্যাচটি ছিল বিশেষভাবে আলোচিত কারণ দলের একজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখার পরও তারা ৪০ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলে জয় তুলে নিয়েছে।

টুর্নামেন্টে এ পর্যন্ত ৮টি ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়েছে, যা বিশ্বকাপে নতুন রেকর্ড। অনেকে এটিকে প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্য হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে মনে করছেন এটি গোলখরা। তবে গোলশূন্য ম্যাচগুলোর বাইরে যে নাটকীয়তা দেখা যাচ্ছে তা ফুটবল বিশ্বকাপের আবেদনকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। বেলজিয়াম, আর্জেন্টিনা এবং ইংল্যান্ডের মতো দলগুলো যেভাবে পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেছে, তা ১৯৭০ সালের পর এমন ধারাবাহিকতায় আর দেখা যায়নি।

এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে যা দেখা গেছে তা উত্তেজনায় ভরপুর। গ্রুপ পর্বের শেষ থেকে নকআউট পর্বের শুরু পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচই যেন নতুন নতুন ইতিহাসের জন্ম দিচ্ছে। টুর্নামেন্টের শেষ আটটি ম্যাচ বাকি আছে এবং স্টেডিয়ামে দর্শকদের উপস্থিতি ও উন্মাদনা বুঝিয়ে দিচ্ছে যে এই বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে একটি বিশেষ স্থান দখল করে নিতে যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয় শেষ পর্যন্ত ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে কোন দেশ শেষ হাসি হাসে।

banner
Link copied!