ইন্দোনেশিয়ার বিশেষ অপরাধ দমন শাখার প্রধান কৌঁসুলি ফেব্রি আদিয়ানসিয়াহ নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। সম্প্রতি পুলিশি অভিযানে তাঁর বাড়ি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও নগদ অর্থ উদ্ধারের পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থেই তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে জানানো হয়েছে।
গত ৮ ও ৯ জুলাই জাকার্তা, দক্ষিণ তানেরাং এবং বোগোর অঞ্চলের ১২টি স্থানে অভিযান চালায় দেশটির পুলিশ। এই অভিযানগুলোতে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের বার এবং বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রাসহ প্রায় ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশি সূত্র এবং সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, বোগোর অঞ্চলের একটি বাড়ি থেকে সবচেয়ে বড় চালানটি উদ্ধার হয়। ফেব্রি আদিয়ানসিয়াহ পরে স্বীকার করেছেন যে বাড়িটি তাঁর ব্যক্তিগত মালিকানাধীন, তবে তিনি দাবি করেছেন যে উদ্ধারকৃত সম্পদের সাথে দুর্নীতির কোনো সম্পর্ক নেই এবং এসব অর্থের বৈধ উৎস রয়েছে।
অভিযানের নেতৃত্বদানকারী পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লা সংগ্রহে দুর্নীতি, মানি লন্ডারিং এবং ঘুষ লেনদেনের অন্তত তিনটি মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় বিমা প্রতিষ্ঠান আসাবরি এবং জীবন বিমা খাতের বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারির সাথেও এই তদন্তের যোগসূত্র থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই অভিযানগুলোতে কোনো সন্দেহভাজনকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো অভিযুক্ত করা হয়নি, তবে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে।
ফেব্রি আদিয়ানসিয়াহ দীর্ঘকাল ধরে ইন্দোনেশিয়ার শীর্ষ পর্যায়ের দুর্নীতি দমন কর্মকর্তাদের একজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি বিশেষ অপরাধ দমন শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর সময়ে তিনি বেশ কিছু উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতির ঘটনায় তদন্ত তদারকি করেছেন, যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। যদিও তাঁর নিজের বিরুদ্ধেই এখন দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের আওতায় আসায় দেশটিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফেব্রির পদত্যাগ বিশেষ অপরাধ দমন শাখার কার্যক্রমকে ব্যাহত করবে না। অ্যাটর্নি জেনারেল এসটি বুরহানউদ্দিন তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন এবং তদন্ত প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী চলবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। পুলিশ ইতিমধ্যে ১৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং শীঘ্রই সন্দেহভাজনদের নাম ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন ইন্দোনেশিয়ার সরকারি বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর সাথে বেসরকারি খাতের যোগসাজশে আর্থিক অনিয়মের ঘটনাগুলো বর্তমানে দেশটির বিচার বিভাগ ও সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এই তদন্ত কতদূর গড়াবে এবং এর প্রভাব সরকারি উচ্চপদস্থ আর কাদের ওপর পড়বে, তা নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক জল্পনা চলছে।
