যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন। চলতি সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে কয়েক দফা সামরিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে নিশ্চিত করেছেন যে তেহরানের সাথে স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে প্রযুক্তিগত আলোচনা অব্যাহত থাকবে। গত জুন মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী উভয় পক্ষ ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি পালনে সম্মত হয়েছিল, তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সেই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গত মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মধ্যে বড় ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার রাতে হরমুজ প্রণালীতে ইরানি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বেশ কিছু বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৮৫টি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অবকাঠামোর ওপর পাল্টা আঘাত হানে। বুধবার রাতে এবং বৃহস্পতিবার ইরানের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র আরও ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা পরিচালনা করে। ইরান দাবি করেছে যে এসব হামলায় তাদের বেসামরিক অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আঙ্কারায় ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমঝোতা স্মারকটি শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করলে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। তিনি শান্তি আলোচনাকে সময়ের অপচয় বলে উল্লেখ করলেও পরদিন বৃহস্পতিবার তার সুর কিছুটা নরম হয়। ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ তাদের লক্ষ্য নয় এবং ইরান একটি সমঝোতায় আসতে আগ্রহী। তবে শুক্রবার ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যার মধ্যে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংলগ্ন এলাকাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। যুক্তরাষ্ট্র এসব হামলার দায় অস্বীকার করেছে।
বর্তমানে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুললেও আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয়নি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনী নিহত হওয়ার পর তার শোকানুষ্ঠান চলাকালীন আলোচনার পথ কিছুটা থমকে ছিল। কাতার ও সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত পরোক্ষ প্রযুক্তিগত আলোচনাগুলো এখন ফের শুরু করার চেষ্টা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি আলোচনার চেয়ে পরোক্ষ উপায়ে এই সংকট সমাধানের পথই এখন পর্যন্ত উভয় পক্ষের জন্য সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে।
মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে। তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয়ই বুঝতে পারছে যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত উভয় অর্থনীতির জন্যই ক্ষতিকর। ইরানের তেল রপ্তানি এবং হরমুজ প্রণালীতে অবাধ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা ছিল জুনের সমঝোতার মূল ভিত্তি। যদিও ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও আঞ্চলিক অস্থিরতা আলোচনার গতি কমিয়ে দিয়েছে, তথাপি কূটনীতির টেবিলে ফিরে আসার সদিচ্ছা এখনো টিকে রয়েছে। আগামী দিনগুলোতে আলোচনার ধরণ ও এর ফলাফলই নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সমীকরণ।
